“এইইতো দুনিয়ার জীবন, এর থেকে সাবধান হও!”: ঈসা (আ.) ও এক ব্যক্তির চমকপ্রদ কাহিনী

শাইখ Joe Bradford-এর Detachment from Worldly Life খুতবাহ থেকে রূপান্তরিত। ইন্টারনেটে এই গল্প আরও অনেক ব্লগ/লেকচারে available আছে।

Spider web

ইমাম আবু বাকর ইবন আবি আল-দুনিয়া (মৃত্যু ২৮১ হিজরি, ৮৯৪ খ্রি:) তাঁর asceticism নিয়ে লিখা বইয়ে নবী ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর একটা ঘটনা উল্লেখ করেছেন।

একদিন ঈসা (আলাইহিস সালাম) এক লোকের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। লোকটি তাঁকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল। সে তাঁর পিছন পিছন হাঁটতে লাগল; সাহস সঞ্চয় করে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে বলল: আমি আপনার শিষ্য হতে চাই, আমাকে আপনার হাওয়ারী করে নিন। ঈসা (আলাইহিস সালাম) উত্তরে বললেন, বিস্তারিত পড়ুন

এ সময়ের ফিতনাহ: ভোগ, চারিত্রিক স্খলন এবং চরমপন্থার হাতছানি (অনুবাদ)

Abu Aaliyah – Surkheel Sharif-এর “Fitnah: Coming to a Sin-e-World Near You! (Part 1)” লেখাটি থেকে অনুদিত। অনুবাদের সময়ে সামান্য পরিমার্জন করা হয়েছে আমাদের পার্সপেক্টিভের সাথে মিল রাখার জন্য। অনুবাদের অনুমতি নেয়া হয়েছে।

Man sitting

আরবী শব্দ ফিতনাহ-র অর্থ অনেক: পরীক্ষা, মতভেদ, দুঃখ-কষ্ট, প্রলোভন, গৃহযুদ্ধ, এবং এমন অন্য কোনো ঝগড়াঝাটি  যা ‘মুসলিম উম্মাহ-র ঐক্যে ফাটল ধরায় এবং এক দল মুসলিমকে আরেক দলের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।’[১] প্রাচুর্য, নারী ও গৃহযুদ্ধের মতো শাশ্বত ও চিরন্তন ফিতনাহ-র পাশাপাশি দুই পর্বের এই ব্লগ আলোচনায় ভুল পথের আহ্বায়ক, গভর্নমেন্ট দ্বারা ইসলাম ও মুসলিম স্কলারদের পোষ মানানোর চেষ্টা, আমাদের ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যার সক্রিয় প্রচার ও অর্থায়ন, সাম্প্রদায়িক হানাহানি এবং তাকফীরের মতো ফিতনাহগুলো নিয়েও আমরা আলোচনা করব। বিস্তারিত পড়ুন

দাঁড়ি, হিজাব ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এবং নারী-পুরুষ পারস্পরিক আচরণবিধি (অনুবাদ)

Abu Aaliyah – Surkheel Sharif-এর “Beards, Hijabs & Body Language: Gender Relations” লেখাটি থেকে অনুদিত। অনুবাদের সময়ে সামান্য পরিমার্জন করা হয়েছে আমাদের পার্সপেক্টিভের সাথে মিল রাখার জন্য। অনুবাদের অনুমতি নেয়া হয়েছে।

Man and woman

নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে ইসলাম কী বলে? এরা একে অপরের সাথে কীভাবে সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রেখে ওঠাবসা ও চলাফেরা করতে পারে? এ বিষয়ে ইসলামী শরীয়ার জ্ঞান ও বিধিনিষেধ কীভাবে প্রতিদিনের জীবনে কাজে লাগানো যায়? এই লেখায় আমরা এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। প্রথমেই আমি এই বিষয়ে শরীয়ার মূলনীতিগুলো তুলে ধরব। তারপর আমরা নারী-পুরুষ সম্পর্কের ব্যবহারিক ও প্রাসঙ্গিক দিক নিয়ে আলাপ করব। বিস্তারিত পড়ুন

আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত সূচনা (২)

আগের লেখা

নামকরণ আমাদের সমাজে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস। বাচ্চা জন্মের পর নাম রাখা নিয়ে মোটামুটি ঠাণ্ডা লড়াই লেগে যায়। দাদাবাড়ি বনাম নানাবাড়ি। বেশ একটা সাজসাজ রব। আমিতো একজনকে জানি যার নাম তার দাদা আর নানার নামের সমষ্টি! ল্যাক অফ ক্রিয়েটিভিটি, ট্রু; বাট মিডল গ্রাউন্ড খুঁজে নেয়ার এর থেকে ভালো উপায় আমার অন্তত জানা নেই। কে বলসে সবাইকে খুশী করা যায় না? বাচ্চা নাহয় নামের ভারে ন্যুব্জ, তাতে কি? মুরব্বীদের সন্তুষ্টি নিয়ে কথা!!

আল্লাহ্‌র নামকরণ তাহলেতো সাঙ্ঘাতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। উনার নাম তাহলে কে রাখল? আমরা কি পারি নিজের খুশিমতো সুন্দর সুন্দর নাম দিতে? যেমন ধরেন, আমি কি বলতে পারি আল্লাহ্‌ আকাশের আর্কিটেক্ট অথবা পৃথিবীর ইঞ্জিনিয়ার?

এক কথায় উত্তর: না। আপনি বা আমি আল্লাহ্‌কে নতুন নতুন নাম দেয়া তো দূরের কথা, আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে জ্ঞান বহির্ভূত কোনো কথাই বলতে পারব না। আল্লাহ্‌ নিজে কুরআনে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন:

2:168

2:169

তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। অবশ্যই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তোমাদের অন্যায় ও অশ্লীল কাজ করতে থাকার আদেশ দেয় আর প্ররোচিত করে আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে এমন কিছু বলতে যার সম্বন্ধে তোমরা কিছুই জানো না। (সূরা বাকারাহ: ১৬৮-১৬৯)

তাহলে আল্লাহ্‌র যে এত এত নাম, সেগুলো আসলো কোত্থেকে?  বিস্তারিত পড়ুন

আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত সূচনা (১)

“What’s in a name? That which we call a rose

By any other name would smell as sweet.”

শেক্সপিয়ারের জুলিয়েট-এর কথা। বাংলায় বলা হয়, নামে কী এসে যায়! নামে যদি কিছু নাই আসে যায়, আমরা নাম দিই কেন? এমনি এমনি?

মানুষের এক আজব স্বভাব-সে সবকিছুকে নাম দিতে চায়, নাম দেয়। আর এই নাম নিয়ে কত হুজ্জত, কত ঝগড়া ফ্যাসাদ আর কোর্ট কাচারি। নামের আবার দামও আছে। প্রত্যেক বছর এর র‍্যাঙ্কিংও হয়! কর্পোরেটে যাকে ব্র্যান্ড বলা হয়, সেটা আদতে নাম ছাড়া আর কী?

আমরা যারা বিশ্বাসী, creation-এ বিশ্বাস রাখি, আমরা জানি আল্লাহ্‌ আদমকে (عليه السلام) প্রথমেই সবকিছুর নাম শিখিয়েছিলেন:

وَعَلَّمَ آدَمَ الأَسْمَاءَ كُلَّهَا

আর আল্লাহ্‌ আদমকে সকল কিছুর নাম শিখালেন। (সূরা বাকারাহ, আয়াত ৩১)

এর পরের ঘটনা আরো সাঙ্ঘাতিক। পরীক্ষা নেয়া হলো: আদম vs. ফেরেশতারা! কিসের পরীক্ষা? ওই নামেরই। ফেরেশতারা নাম জানতেন না, আদম (عليه السلام) জানতেন। আদমের সুপিরিয়রিটি এস্টাব্লিশ হলো নামের পরীক্ষার মাধ্যমে। ফেরেশতারা সিজদা করলেন, ইবলিস করল না যার ফলে অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হলো!

2:31

2:32

2:33

… তারপর সে-সমস্ত জিনিসকে ফেরেশতাদের সামনে আনলেন। বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।

তারা বললেন, আপনি পবিত্র! আমাদের কোনো জ্ঞান নেই আপনি যা আমাদের শিখিয়েছেন তা ছাড়া। নিশ্চয়ই আপনি প্রকৃত জ্ঞানী  ও বিজ্ঞ।

তিনি বললেন, আদম, ওদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন আদম বলে দিলেন সে-সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আকাশ ও পৃথিবীর সব গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর! (সূরা বাকারাহ, আয়াত ৩১-৩৩)

নামে কী এসে যায়: উত্তর পেয়ে গেলেন নিশ্চয়ই! সব কিছু!!

মুসলমান মানেই আমরা অলমোস্ট সবাই জানি যে, আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌র ৯৯টি নাম আছে। সিপারার (আমপারা) পিছনে সেই ছোটবেলা থেকেই আমরা ৯৯ নামের ছক দেখছি। ঘরে ঘরে ৯৯ নামের বাঁধাই করা ছবি ঝুলতে দেখা যায় অহরহ। ক্যালেন্ডারেও ব্যবহার হয়। ফজরের নামাযের পরে কোনো কোনো মসজিদে সূরা হাশরের শেষ কয়টি আয়াত সবাই মিলে উচ্চস্বরে পাঠ করা হয়, যেই আয়াতগুলোতে আল্লাহ্‌র অনেকগুলো নামের উল্লেখ আছে।

প্রশ্ন: আল্লাহ্‌র নাম কোত্থেকে এল? আসলেই কি উনার ৯৯টা নাম? নাকি আরো আছে? এগুলো জেনে কী হবে? কি লাভ? আমি কি চাইলেই আল্লাহকে মনখুশি নাম দিতে পারি? এই প্রশ্নগুলোর কিছুর উত্তর ইনশাআল্লাহ আজকের লেখায় থাকবে। বাকি উত্তর পেয়ে যাবেন পরের এপিসোডে। ইনশাআল্লাহ্‌।

আগের পর্বে যেমন লিখেছিলাম, আমার এই লেখাগুলার প্রাইমারি সোর্স শাইখ ড. ইয়াসির কাদীর গত রমজানের লেকচার সিরিজ। আগ্রহীদের অবশ্যই ভিডিওগুলো দেখে নিতে বলব: worth their weight in gold.

Landscape at twilight

আল্লাহ্‌র নাম ও গুণাবলী — ইসলামিক একত্ববাদের মৌলিক ভিত্তি:

আল্লাহ্‌র নাম ও গুণাবলী কুরআনের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। কুরআনে এমন জায়গা খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হবে যেখানে পরপর দুই কি তিন আয়াতে আল্লাহ্‌র একটা নামও নেই। বলা যায় প্রায় প্রত্যেকটি লাইনেই বা আয়াতেই আল্লাহ্‌র এক বা একাধিক নাম পাওয়া যায়। আল্লাহ্‌র নামের জ্ঞান আমাদের ধর্মের একদম মৌলিক বিষয়গুলোর একটি। ইসলামের প্রথম পিলার হলো الاىمان بى الله বা আল্লাহ্‌র উপর বিশ্বাস। আল্লাহ্‌? কে তিনি? চিন্তা করে দেখেন, আল্লাহ্‌র নামগুলো যদি না থাকতো, তাহলে কি এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারতাম আমরা? পারতাম না। তার মানে হলো, বিস্তারিত পড়ুন