একজন ঈমানদার যেভাবে পর্যায়ক্রমে তার ঈমান হারিয়ে ফেলতে পারে

কুরআনের সূরা হাদিদ-এর ১২ থেকে ১৬তম আয়াতের উপর উস্তাদ নুমান আলী খানের দেওয়া খুতবা “How We Lose Our Iman”-এর বাংলা ভাবার্থ। খুতবাটি অনেক দীর্ঘ হওয়ায় এটি তিনটি পৃথক খন্ডে “আমার স্পন্দন”-এ প্রকাশ করা হচ্ছে, যার দ্বিতীয় খন্ড হলো এটি। — সম্পাদক

Glass blurred

প্রথম খন্ড

কোনো ব্যক্তির ঈমান রাতারাতি ধ্বংস হয়ে যায় না। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কোনো ঈমানদার ব্যক্তি মুনাফিক হয়ে যায় না। এটা একটা পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়া। সূরা হাদিদ-এর এই আয়াতটি বিশেষভাবে নিগূঢ় একটি আয়াত, যেখানে বর্ণিত হয়েছে একজন মুসলিম কীভাবে ক্রমান্বয়ে তার ঈমান হারিয়ে ফেলতে পারে: বিস্তারিত পড়ুন

Advertisements

ঈমান বাড়ানোর সহজ চারটি উপায়

Forest

আমাদের ঈমান কখনও বাড়ে, আবার কখনও কমে। সুতরাং, এটা বোঝা দরকার আমার ঈমান কি বাড়ছে, নাকি কমছে? ঈমান মাপার বাটখারাটা আসলে কী? আমাদের ঈমান কীভাবে বাড়বে আর কীভাবে কমবে তা আমাদের জানা থাকা দরকার।  বিস্তারিত পড়ুন

“আমি তো নবি না, আমাকে দিয়ে ওসব হবে না!”

Wooden ladder

আমরা যখন অনেক মুসলিমদের ইসলামের বিভিন্ন বিধির কথা বলি, তারা বলে বসেন, “আরেহ, তিনি তো ছিলেন নবি, আমরা তো আর নবি না, আমাদের দিয়ে কী ওসব হবে।”

এধরণের জবাবের সমস্যা দুটো।

১. হীনমন্যতা। এটা শুধু ইসলামি বিধির ক্ষেত্রে না, অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেও হতে পারে। যেমন কারও সামনে যদি আইনস্টাইনের উদাহরণ তুলে ধরা হয়, তাহলে হয়তো তিনি বলবেন, “আমি কি আর আইনস্টাইন?”

উঠতি কোনো খেলোয়াড়কে যদি সাকিব আল-হাসানের উদাহরণ দেওয়া হয়, তিনি হয়তো বলবেন, “আমি কি আর সাকিব?”

সমস্যাটা এখানে মানসিকতায়। আমরা ধরেই নিয়েছি আমাদের দিয়ে উৎকর্ষতা অর্জন সম্ভব না। আমরা ছাপোষা মানুষ। নিত্যদিন যা করি, তা-ই নিয়ে কোনোমতে জীবনটা পার করে দিলেই হলো। স্বপ্ন কিংবা কোনো কিছু নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমাদের মনে কাজ করে না। তার পরিবর্তে চেপে ধরে আমাদের নিজেদেরই তৈরি করা সীমাবদ্ধ বিশ্বাস।

২. সাধারণ বুদ্ধি দিয়ে আমরা এটা বুঝি যে, নবি-রাসূলরা ছিলেন আল্লাহর বিশেষ মনোনীত ব্যক্তি। তাঁরা যা পেরেছেন বা করেছেন তা হুবুহু আমাদের পক্ষে করা কখনোই সম্ভব না। তা-ই বলে আমরা কি থেমে থাকব?  বিস্তারিত পড়ুন

আমাদের রামাদান বৃথা যাবে না যদি …

ঈমানের স্তর হলো তিনটি।

এক – মুসলিম। মুসলিম হলো সেই ব্যক্তি যে বাহ্যিকভাবে ইসলামের মৌলিক ফরজগুলো (শাহাদাহ, সালাত, সাওম, যাকাত, হাজ্জ) পালন করে আর কবিরা গুনাহ থেকে নিজেকে যথাসম্ভব দূরে রাখে। এই ব্যক্তির সাথে চলাফেরা করলে, মেলামেশা করলে এবং তার বাহ্যিক কাজকর্ম দেখলে একজন বুঝতে পারবে যে তার ধর্ম ইসলাম। মুসলিম হলো ঈমানের ন্যুনতম স্তর। মুসলিম হওয়ার কর্মকান্ডগুলো আনুভূমিক মাত্রার (of horizontal dimension)। এই কাজগুলো আশেপাশের মানুষেরা সহজেই দেখতে পায়। কাজেই, ইসলাম বলতে বোঝায় বাহ্যিক আত্মসমর্পণ (outward submission)।

দুই – মু’মিন। একজন মু’মিন শুধু সালাত পড়ার জন্য সালাত পড়ে না, সবাই সাওম রাখে তাই আমিও রাখি – এভাবে চিন্তা করে না। সে যখন সালাত পড়ে, তখন সে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে; সে যখন সাওম রাখে তখন নিজেকে সবরকম মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার প্রাণপন চেষ্টা করে; যাকাতের টাকা পকেট থেকে দেয়ার সময় তার মন খচখচ করে না, বরং নিজের উপার্জনকে পবিত্র করতে পেরেছে বিধায় সে পরিতৃপ্তি অর্জন করে।

মু’মিন ব্যক্তি সব কবিরা গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখে, আর সগিরা গুনাহ থেকেও নিজেকে বিরত রাখতে সবসময় চেষ্টা করে। মু’মিন বলতে এমন একজন মানুষকে বোঝায় যার বিস্তারিত পড়ুন

নামাজ না পড়েও ‘ভালো’ হওয়া যায় কি?

Namaz

Photo credit: Rajarshi Mitra, via flickr[dot]com/photos/tataimitra/11146655355

নামাজ পড়ে আমার ভালোত্বের প্রমাণ দিতে হবে না।

মুখে না-বললেও অনেকের মনেই এমন একটা ধারণা আছে। তাদের দাবি, স়ালাাত বা নামাজ পড়লেই মানুষ ভালো হয়ে যায় না। আমার নামাজ পড়ার দরকার নেই। আমি এমনিতেই ভালো।

আমি তাদের দাবির সঙ্গে অর্ধেক একমত।

হ্যাঁ, নামাজ না-পড়েও অনেকে ভালো হতে পারেন। এই ভালো হচ্ছে নৈতিক ভালো। যেমন, বাবা-মা’র সঙ্গে ভালো ব্যবহার, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ভালো ব্যবহার, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার, মানুষের সঙ্গে লেনাদেনায় সততা ইত্যাদি।

কিন্তু আরেক প্রকার ভালোত্ব আছে। সেটা হচ্ছে বিস্তারিত পড়ুন