সম্পর্ক কেন ভেঙে যায়? (অনুবাদ)

ইয়াসমিন মুজাহিদ-এর একটি লেখা থেকে অনুদিত। ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

very-old-door

আমার বয়স যখন ১৭, তখন একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম। স্বপ্নে দেখছিলাম, আমি একটা মাসজিদের ভেতর বসে আছি। ছোট্ট এক মেয়ে কোত্থেকে যেন দৌড়ে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা বলো তো, মানুষ কেন একজন আরেকজনকে ছেড়ে যায়?” প্রশ্নটা শুনে ভাবলাম, আরেহ এটা তো আমারই প্রশ্ন; আমাকেই জিজ্ঞেস করা হচ্ছে! পরে বুঝতে পেরেছিলাম প্রশ্নটা কেন আমাকে করা হয়েছিল।  বিস্তারিত পড়ুন

যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ্ তাদের ওয়ালি

2:257

যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ্ তাদের ওয়ালি, তিনি তাদেরকে অন্ধকারগুলোর থেকে আলোর দিকে বার বার নিয়ে যান। … (সূরা বাকারাহ: ২৫৭)

আমরা যারা ঈমান এনেছি তাদের জন্য এই আয়াতটা খুবই আশাব্যঞ্জক। আল্লাহ্ বলছেন তিনি আমাদের ওয়ালি বা প্রোটেক্টিভ ফ্রেন্ড – এমন বন্ধু যিনি আমাদের সব বিপদ থেকে বার বার রক্ষা করতে চান। কিন্তু, শর্ত হলো আমাদের সঠিকভাবে ঈমান আনতে হবে। সূরা বাকারাহর ১৪৩ তম আয়াত থেকে আমরা জানি যে, ঈমানের অন্য নাম হলো সালাত। কাজেই ব্যাপারটা দাড়ালো: আমরা যদি নিয়মিত সালাত পড়ি তাহলে আল্লাহ্ আমাদের প্রোটেক্টিভ ফ্রেন্ড হয়ে যাবেন।

অনেক সময় দেখা যায়, বিস্তারিত পড়ুন

সবর ও শোকর

Summer sun

জীবনের গতিটাকে যদি পেনসিলের খোঁচায় আঁকতে হয়, তাহলে নিশ্চয় হৃত্স্পন্দনের উঁচু-নিচু রেখার মতোই হবে; কখনো ওপরে, কখনো নীচে, কখনো বা সমতলে চলতে থাকে জীবন-স্পন্দন। কখনো হাসি, কখনো কান্না। কখনো আশা, কখনো নিরাশা। কখনো ‘উসর, কখনো ইউসর।

94:6

নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। (আল-কুরআন, ৯৪:৬)

তবে উভয় অবস্থাই মুমিনের জন্য কল্যাণকর।

عَنْ صُهَيْبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : “عَجَبًا لأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لأَحَدٍ إِلاَّ لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ”.

সুহাইব রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “মুমিনের ব্যাপারটা বেশ দারুণ, তার সবকিছুই মঙ্গলজনক। এবং এমনটা মুমিন ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে হয় না। সে সুখে থাকলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, ফলে সেটা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আবার সে দুখে থাকলে ধৈর্যধারণ করে, ফলে সেটাও তার জন্য ভালো হয়ে থাকে।” (সহীহ মুসলিম: ২৯৯৯)

অন্যভাবে বললে, বিস্তারিত পড়ুন

আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত সূচনা (২)

আগের লেখা

নামকরণ আমাদের সমাজে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস। বাচ্চা জন্মের পর নাম রাখা নিয়ে মোটামুটি ঠাণ্ডা লড়াই লেগে যায়। দাদাবাড়ি বনাম নানাবাড়ি। বেশ একটা সাজসাজ রব। আমিতো একজনকে জানি যার নাম তার দাদা আর নানার নামের সমষ্টি! ল্যাক অফ ক্রিয়েটিভিটি, ট্রু; বাট মিডল গ্রাউন্ড খুঁজে নেয়ার এর থেকে ভালো উপায় আমার অন্তত জানা নেই। কে বলসে সবাইকে খুশী করা যায় না? বাচ্চা নাহয় নামের ভারে ন্যুব্জ, তাতে কি? মুরব্বীদের সন্তুষ্টি নিয়ে কথা!!

আল্লাহ্‌র নামকরণ তাহলেতো সাঙ্ঘাতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। উনার নাম তাহলে কে রাখল? আমরা কি পারি নিজের খুশিমতো সুন্দর সুন্দর নাম দিতে? যেমন ধরেন, আমি কি বলতে পারি আল্লাহ্‌ আকাশের আর্কিটেক্ট অথবা পৃথিবীর ইঞ্জিনিয়ার?

এক কথায় উত্তর: না। আপনি বা আমি আল্লাহ্‌কে নতুন নতুন নাম দেয়া তো দূরের কথা, আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে জ্ঞান বহির্ভূত কোনো কথাই বলতে পারব না। আল্লাহ্‌ নিজে কুরআনে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন:

2:168

2:169

তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। অবশ্যই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তোমাদের অন্যায় ও অশ্লীল কাজ করতে থাকার আদেশ দেয় আর প্ররোচিত করে আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে এমন কিছু বলতে যার সম্বন্ধে তোমরা কিছুই জানো না। (সূরা বাকারাহ: ১৬৮-১৬৯)

তাহলে আল্লাহ্‌র যে এত এত নাম, সেগুলো আসলো কোত্থেকে?  বিস্তারিত পড়ুন

আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত সূচনা (১)

“What’s in a name? That which we call a rose

By any other name would smell as sweet.”

শেক্সপিয়ারের জুলিয়েট-এর কথা। বাংলায় বলা হয়, নামে কী এসে যায়! নামে যদি কিছু নাই আসে যায়, আমরা নাম দিই কেন? এমনি এমনি?

মানুষের এক আজব স্বভাব-সে সবকিছুকে নাম দিতে চায়, নাম দেয়। আর এই নাম নিয়ে কত হুজ্জত, কত ঝগড়া ফ্যাসাদ আর কোর্ট কাচারি। নামের আবার দামও আছে। প্রত্যেক বছর এর র‍্যাঙ্কিংও হয়! কর্পোরেটে যাকে ব্র্যান্ড বলা হয়, সেটা আদতে নাম ছাড়া আর কী?

আমরা যারা বিশ্বাসী, creation-এ বিশ্বাস রাখি, আমরা জানি আল্লাহ্‌ আদমকে (عليه السلام) প্রথমেই সবকিছুর নাম শিখিয়েছিলেন:

وَعَلَّمَ آدَمَ الأَسْمَاءَ كُلَّهَا

আর আল্লাহ্‌ আদমকে সকল কিছুর নাম শিখালেন। (সূরা বাকারাহ, আয়াত ৩১)

এর পরের ঘটনা আরো সাঙ্ঘাতিক। পরীক্ষা নেয়া হলো: আদম vs. ফেরেশতারা! কিসের পরীক্ষা? ওই নামেরই। ফেরেশতারা নাম জানতেন না, আদম (عليه السلام) জানতেন। আদমের সুপিরিয়রিটি এস্টাব্লিশ হলো নামের পরীক্ষার মাধ্যমে। ফেরেশতারা সিজদা করলেন, ইবলিস করল না যার ফলে অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হলো!

2:31

2:32

2:33

… তারপর সে-সমস্ত জিনিসকে ফেরেশতাদের সামনে আনলেন। বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।

তারা বললেন, আপনি পবিত্র! আমাদের কোনো জ্ঞান নেই আপনি যা আমাদের শিখিয়েছেন তা ছাড়া। নিশ্চয়ই আপনি প্রকৃত জ্ঞানী  ও বিজ্ঞ।

তিনি বললেন, আদম, ওদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন আদম বলে দিলেন সে-সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আকাশ ও পৃথিবীর সব গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর! (সূরা বাকারাহ, আয়াত ৩১-৩৩)

নামে কী এসে যায়: উত্তর পেয়ে গেলেন নিশ্চয়ই! সব কিছু!!

মুসলমান মানেই আমরা অলমোস্ট সবাই জানি যে, আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌র ৯৯টি নাম আছে। সিপারার (আমপারা) পিছনে সেই ছোটবেলা থেকেই আমরা ৯৯ নামের ছক দেখছি। ঘরে ঘরে ৯৯ নামের বাঁধাই করা ছবি ঝুলতে দেখা যায় অহরহ। ক্যালেন্ডারেও ব্যবহার হয়। ফজরের নামাযের পরে কোনো কোনো মসজিদে সূরা হাশরের শেষ কয়টি আয়াত সবাই মিলে উচ্চস্বরে পাঠ করা হয়, যেই আয়াতগুলোতে আল্লাহ্‌র অনেকগুলো নামের উল্লেখ আছে।

প্রশ্ন: আল্লাহ্‌র নাম কোত্থেকে এল? আসলেই কি উনার ৯৯টা নাম? নাকি আরো আছে? এগুলো জেনে কী হবে? কি লাভ? আমি কি চাইলেই আল্লাহকে মনখুশি নাম দিতে পারি? এই প্রশ্নগুলোর কিছুর উত্তর ইনশাআল্লাহ আজকের লেখায় থাকবে। বাকি উত্তর পেয়ে যাবেন পরের এপিসোডে। ইনশাআল্লাহ্‌।

আগের পর্বে যেমন লিখেছিলাম, আমার এই লেখাগুলার প্রাইমারি সোর্স শাইখ ড. ইয়াসির কাদীর গত রমজানের লেকচার সিরিজ। আগ্রহীদের অবশ্যই ভিডিওগুলো দেখে নিতে বলব: worth their weight in gold.

Landscape at twilight

আল্লাহ্‌র নাম ও গুণাবলী — ইসলামিক একত্ববাদের মৌলিক ভিত্তি:

আল্লাহ্‌র নাম ও গুণাবলী কুরআনের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। কুরআনে এমন জায়গা খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হবে যেখানে পরপর দুই কি তিন আয়াতে আল্লাহ্‌র একটা নামও নেই। বলা যায় প্রায় প্রত্যেকটি লাইনেই বা আয়াতেই আল্লাহ্‌র এক বা একাধিক নাম পাওয়া যায়। আল্লাহ্‌র নামের জ্ঞান আমাদের ধর্মের একদম মৌলিক বিষয়গুলোর একটি। ইসলামের প্রথম পিলার হলো الاىمان بى الله বা আল্লাহ্‌র উপর বিশ্বাস। আল্লাহ্‌? কে তিনি? চিন্তা করে দেখেন, আল্লাহ্‌র নামগুলো যদি না থাকতো, তাহলে কি এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারতাম আমরা? পারতাম না। তার মানে হলো, বিস্তারিত পড়ুন