যেসব কারণে দু’আ কবুল হয় না

Sultanahmet Camii, Istanbul

আমাদের অনেকের মনেই দু’আ কবুল না হওয়ার একটি অভিযোগ প্রায়ই আসে। আল্লাহর কাছে অনেক দু’আ করি, কিন্তু মনে হয় যেন কোনো লাভ হচ্ছে না।

প্রথম কথা হলো, দু’আ তিনভাবে কবুল হয়: (১) হুবুহু যেই বিষয়ে দু’আ করা হয়েছে তাই দেয়া হয়, (২) যা চাওয়া হয়েছে তার পরিবর্তে যেটা আমাদের জন্য অধিকতর উত্তম তা দেয়া হয় কিংবা এর পরিবর্তে কোনো বিপদআপদ বা মুসিবত তাকদিরে থেকে থাকলে সেটা সরিয়ে নেয়া হয়, এবং (৩) কোনো কোনো দু’আর প্রতিদান দুনিয়াতে দেয়া হয় না, বরং আখিরাতে দেয়া হবে। এবং সেই প্রতিদান ইন’শা’আল্লাহ এত বিশাল হবে, অনেকেরই হয়তো আফসোস হবে, সবগুলো দু’আর বিনিময়ই যদি এই জগতে দেয়া হতো, তাহলে কতই না উত্তম হতো।

তবে, এর সাথে সাথে মনে রাখতে হবে, এমন কিছু দোষ রয়েছে, যেগুলো কারো মধ্যে যদি থাকে অথবা এমন কিছু বিষয়ে সে দু’আ করে যা চাইতে নিষেধ করা হয়েছে, তাহলে এই দু’আ কবুল করা হয় না। এই দু’আর কোনো প্রতিদানও সে পাবে না। না দুনিয়াতে, না আখিরাতে। নিচে তিনটি উদাহরন দেয়া হলো –  বিস্তারিত পড়ুন

[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #২০: ধার্মিকতার জন্য জিহাদ (অনুবাদ)

“যে সংগ্রাম করে সে নিজের জন্যই সংগ্রাম করে। আল্লাহ তো বিশ্বজগৎ থেকে অমুখাপেক্ষী।” (সূরাহ আল-আনকাবুত, ২৯:০৬)

আল-কুর’আনের অল্প যে-কিছু সংখ্যক জায়গায় ধার্মিকতা অর্জনের জন্য নিজের সঙ্গে নিজের জিহাদের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে এটি একটি। এই সংগ্রাম হচ্ছে নিজের কুপ্রবৃত্তি ও অহংবোধের বিরুদ্ধে। এর নাম জিহাদুন-নাফ্‌স। যারা বলে থাকে আল-কুর’আনে জিহাদসংক্রান্ত যত আয়াত আছে তার সবই যুদ্ধসংক্রান্ত এই আয়াতটি তাদের সেই দাবিকে খণ্ডন করছে। জিহাদুন-নাফ্‌সকে যারা গুরুত্বের সঙ্গে নেয় না তাদের জন্যও এই আয়াতটি বিশেষ আলোচনার দাবি রাখে।

শত্রুপক্ষের সঙ্গে যুদ্ধের বৈধতা দেওয়ার আগে মাক্কাহ্‌য় এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। এই আয়াতটি জীবনের পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রথমে এই বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে বিস্তারিত পড়ুন

[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #১৫: সফলতা আল্লাহর কাছ থেকে (অনুবাদ)

“তুমি যদি মনে করো, তোমার চেয়ে আমার সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কম তাহলে তোমার বাগানে প্রবেশকালে কেন বললে না যে, মাশা’আল্লাহ (আল্লাহ যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে) আর আল্লাহ ছাড়া কারও কোনো ক্ষমতা নেই?” (সূরাহ আল-কাহ্‌ফ, ১৮:৩৯)

এক ধনী বাগান-মালিক ও তার দরিদ্র বন্ধুর কাহিনির অংশ এই আয়াতটি। খেজুর, আঙুর ও অন্যান্য বিভিন্ন ফসলাদি দিয়ে আল্লাহ একজন চাষীকে বিশেষ সফলতা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার এই সফলতায় সে অহংকারী হয়ে ওঠে। হয়ে ওঠে উদ্ধত। এ নিয়ে বারবার খোঁটা দিতে থাকে তার দরিদ্র বন্ধুকে।

তার দরিদ্র বন্ধু তাকে তখন যে-দাওয়াহ দিয়েছিলেন তার অংশবিশেষ এ আয়াতটি। মাশা’আল্লাহ (আল্লাহ যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে) এবং লা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কারও কোনো ক্ষমতা নেই) এ দুটো কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তার বন্ধু তাকে এই সদুপদেশই দিয়েছিলেন যে, সে যেন মনে না করে এটা তার নিজের কামাই। বরং আল্লাহই এই সফলতার উৎস। এই আয়াতের উদ্দেশ্য একজন মানুষকে এটাই মনে করিয়ে দেওয়া যে, বিস্তারিত পড়ুন

[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #১৪: আল্লাহর উপর ভরসা করার উপকারিতা (অনুবাদ)

“যারা তাদের প্রভুকে বিশ্বাস করে এবং তাঁর উপর আস্থা রাখে তাদের উপর শয়তানের কোনো কর্তৃত্ব নেই।” (সূরাহ আন-নাহ্‌ল, ১৬:৯৯)

সূরাহটির আগের আয়াতে বলা হয়েছে, আমরা যখন কুর’আন পড়ব তখন আমরা যেন শয়তান থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আমার মনে হয় বিষয়টি সবাই জানেন। আল্লাহর কথা থেকে আমরা যেন উপকৃত হতে না পারি সে জন্য শয়তান তার সব চালই চালবে। কাজেই শয়তানের কুমন্ত্রণা ও মনোযোগ ব্যাঘাতকারী জিনিস থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়।

এটা বলার পর আল্লাহ আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, যারা সত্যিকার অর্থেই আল্লাহকে বিশ্বাস করে এবং তাঁর উপরই ভরসা (তাওয়াক্কুল) করে, তাদের উপর শয়তানের কোনো ক্ষমতা নেই। প্রশ্ন হতে পারে, সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করার মানে কী? এর মানে এটাই যে, আপনি বিস্তারিত পড়ুন

[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #১৩: কৃতজ্ঞ থাকলে আল্লাহর অনুগ্রহ বাড়ে (অনুবাদ)

(স্মরণ করো) যখন তোমাদের প্রভু ঘোষণা করেছিলেন, “যদি তোমরা কৃতজ্ঞ থাকো, তাহলে তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব, কিন্তু যদি অকৃতজ্ঞ হও তাহলে (মনে রাখবে) আমার শাস্তি অবশ্যই কঠোর।” (সূরাহ ইবরাহিম, ১৪:০৭)

গতকাল আমরা দেখেছিলাম নাবি ইউসুফ (আ) কীভাবে দাওয়াহ দিয়েছিলেন। তাঁর দাওয়াহর মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল আল্লাহর ‘ইবাদাতের কারণ হিসেবে কৃতজ্ঞতা। আজকে আমরা দেখব নাবি মূসা (আ) কীভাবে দাওয়াহ দিয়েছিলেন। এখানেও আমরা কৃতজ্ঞতার ব্যাপারটি দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহর অনুগ্রহের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে এমন ধারাবাহিক কিছু আয়াতের অংশ এই আয়াতটি। এই আয়াতের মাধ্যমে তাদের মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছিল যে, আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা আল্লাহর সাহায্য আসার অন্যতম লক্ষণ।

বর্তমান সময়ে আমরা দেখি, মানুষের কাছে যা আছে তা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নয়। তাদের আরও চাই, আরও ভালো জিনিস চাই। আমরা মনে করি অভিযোগ করলেই বুঝি ভালো জিনিস পাওয়া যাবে। কিন্তু এই আয়াতে তার বিপরীত চিত্রই দেখছি আমরা। বর্তমানে আমাদের কাছে যা আছে তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকলেই বরং আল্লাহ তাঁর প্রাচুর্য আরও বাড়িয়ে দেবেন। উল্টোদিকে অকৃতজ্ঞ হলে বিস্তারিত পড়ুন