আরবি শব্দ “দ্বীন”-এর পাঁচটি অর্থ

ক্লাসের সবার সামনে অনেক ভালো একটা প্রেসেন্টেশন দিয়েছেন আপনি। নিজের পারফর্মেন্সে বেজায় খুশী। এবার কোয়েশ্চান-আনসার সেশন শুরু। প্রথম প্রশ্নকর্তা প্রশ্ন করলো। আপনি প্রশ্নটি শুনতে পেলেন ঠিকই কিন্তু বুঝতে পারলেন না, কারণ সে তার প্রশ্নে এমন একটা টেকনিক্যাল ওয়ার্ড ব্যবহার করেছে যার সাথে আপনি পরিচিত নন। আপনি হাল্কার উপর যা বুঝেছেন সে অনুযায়ী যেই উত্তর দেয়া শুরু করেছেন প্রশ্নকর্তা আপনাকে থামিয়ে দিলো। স্পষ্টভাবে আপনাকে আবার জিজ্ঞেস করলো – ‘আমি জানতে চাচ্ছি &)$%#@ টা আপনি কিভাবে ভ্যালিডেট করেছেন?’ আপনি কোনোরকম একটা উত্তর দিতে গেলে সে আবার আপনাকে থামিয়ে দৃঢ়ভাবে প্রশ্ন করলো। আপনার মাথা বেয়ে দরদর করে ঘাম ঝরা শুরু করলো, ভাবতে লাগলেন প্রশ্নকর্তা যা বুঝাতে চাচ্ছে তাই যখন বুঝি না তখন উত্তর দিবো কিভাবে? এরকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন আপনি কখনো হয়েছেন কিনা আমি জানি না, কিন্তু আমি আমার থিসিস সুপারভাইজার-এর সামনে এই অবস্থায় অনেকবার পড়েছি।

Empty bench

Photo credit: Victor Bezrukov, via flickr[dot]com/photos/s-t-r-a-n-g-e/8099193955

আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের কবরে দুইজন ফেরেশতা আসবেন। এসে শোয়া অবস্থা থেকে উঠিয়ে বসাবেন, তারপর আমাদেরকে তিনটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবেন। এর মধ্যে দ্বিতীয় প্রশ্নটা হলো –

 ما دينك – মা দিনুকা (তোমার দ্বীন কী)?

প্রশ্নটির মূল শব্দ হলো দ্বীন (دين)। কাজেই, আমরা যদি এই প্রশ্নের উত্তর ঠিকমতো দিতে চাই তাহলে আগে দ্বীন শব্দের অর্থ বুঝতে হবে। সাধারণভাবে দ্বীন শব্দটির অনুবাদ যদিও বলা হয়ে থাকে ‘ধর্ম’, কিন্তু আরবীতে দ্বীন শব্দটির অর্থ ব্যাপক। আপনি যখন জানবেন আরবীতে দ্বীন বলতে কী বোঝায় তখন চমৎকৃত না হয়ে থাকতে পারবেন না।

১ – দ্বীন শব্দের মূল অর্থ হলো ঋণ বা দেনা। আমরা প্রত্যেকেই আল্লাহ্‌র কাছে ঋণী কারণ তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা – আর ‘দ্বীনুল ইসলাম’ বলে কিভাবে আমরা আল্লাহ্‌র কাছে আত্মমর্পণের মাধ্যমে (ইসলাম শব্দের অর্থ submission বা আত্মসমর্পণ – বিস্তারিত পরে আলোচনা করা হবে) তাঁর ঋণ পরিশোধ করবো।  দ্বীনুল ইসলাম শুধু আল্লাহ্‌র ঋণ কিভাবে পরিশোধ করতে হবে তাই বলে না, কিভাবে মা-বাবা ও অন্য মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার ও প্রাপ্য অধিকার দেয়ার মাধ্যমে তাদের ঋণ পরিশোধ কিভাবে করতে হবে তাও বলে। জীবনের প্রতি আমাদের যে দায়বদ্ধতা, বাবা-মা ও অন্য মানুষদের প্রতি আমাদের যে দায়বদ্ধতা আমরা প্রত্যেকেই তা কোনো না কোনো ভাবে পালন করে থাকি। এই দায়বদ্ধতা যদি আমরা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল(সা)-এর দেখানো পথে পালন করে থাকি তাহলে আমাদের দ্বীন ইসলাম, কিন্তু যদি আল্লাহ-রাসূলের কথার তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়াল-খুশীমতো চলাফেরা করে থাকি, তাহলে আমরা নামে মুসলিম হলেও আমাদের প্রকৃত দ্বীন বিস্তারিত পড়ুন

Advertisements

আল্লাহ্‌ থাকতে পৃথিবীতে এত দু:খ-কষ্ট কেন?

Photo credit: flickr[dot]com/photos/66720528@N04/8475416207

Photo credit: flickr[dot]com/photos/66720528@N04/8475416207

প্রশ্ন ১আল্লাহ যদি সর্বশক্তিমান এবং পরম করুনাময় হন, তাহলে পৃথিবীতে এত দু:খ-কষ্ট কেন?

উত্তর: প্রথম কথা হলো, পৃথিবীতে দুঃখ-কষ্ট থাকলেও পৃথিবীতে অনেক আনন্দও আছে। বরং, পৃথিবীতে আনন্দই বেশী, নাহলে অধিকাংশ মানুষ বেঁচে থাকতে চাইত না।

বলুন, আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দাদের জন্য যে সব সুশোভন বস্তু ও পবিত্র জীবিকা সৃষ্টি করেছেন, তা কে নিষিদ্ধ করেছে? বলুন, এসব তো ঈমানদারদের জন্য পার্থিব জীবনে এবং বিশেষ করে কিয়ামতের দিনে। – সূরা আরাফ(৭:৩২)

দ্বিতীয়ত: অনেক সময় এমন কিছু হয় যা আপনার কাছে আপাতঃদৃষ্টিতে কষ্টদায়ক বলে মনে হয়, কিন্তু পরে যেয়ে দেখা যায় ঐ কষ্টের ঘটনাটার জন্যই আপনার জীবনে এমন কোন পরিবর্তন এসেছে যা আপনার জন্য অনেক বেশী উপকারী। আমাদের সবার জীবনেই কম-বেশী এরকম অভিজ্ঞতা আছে। এভাবে, আল্লাহ্‌ আমাদের বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেন, যাতে আমরা শিক্ষাগ্রহণ করতে পারি এবং কঠিনতর পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারি।

তিনি (আল্লাহ্) বললেন: আমি যা জানি তোমরা তা জান না।  (সূরা বাক্বারাহ্‌ ২:৩০)।

তৃতীয়ত: এই পৃথিবীটা হলো একটা বিস্তারিত পড়ুন

“সবকিছুই যদি আল্লাহ্‌ তৈরী করে থাকেন তো আল্লাহ্‌কে কে তৈরী করলো?”

Photo credit: pixabay[dot]com/en/milky-way-universe-perseids-cosmos-451599/

Photo credit: pixabay[dot]com/en/milky-way-universe-perseids-cosmos-451599/

[Note: এই লেখায় আল্লাহ্‌ / ঈশ্বর / সৃষ্টিকর্তা / God সমার্থকরূপে ব্যবহার করা হয়েছে ]

প্রশ্ন ১। বিভিন্ন সময় নাস্তিকদের বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করা অন্ধবিশ্বাস মাত্র।  ঈশ্বরবিশ্বাস কি আসলেই একটা আবেগীয় ব্যাপার,  নাকি ঈশ্বরের অস্তিত্বের যৌক্তিক প্রমান আছে?

উত্তর: নাস্তিকেরা বলে থাকে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস একটি অন্ধবিশ্বাস। তারা বলে, যেহেতু আল্লাহকে দেখা যায় না, ধরা যায় না, শোনা যায় না, লজিক দিয়ে প্রমাণ করে যায় না – কাজেই আল্লাহ্‌ বলে কিছু নেই। কিন্তু, বাস্তব হলো সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস এবং সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করা মানুষের জন্মগত স্বভাব। আর যদিও নাস্তিকেরা নিজেদেরকে যুক্তিবাদী বলে দাবী করে, কিন্তু সত্য হলো সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব  যুক্তি বা লজিক দিয়ে প্রাচীনকাল থেকেই প্রমাণিত হয়ে এসেছে।

বর্তমানে আমরা যে লজিক বা যুক্তিবিদ্যা পড়ি, তার আবিষ্কারক হলো প্রাচীন বিস্তারিত পড়ুন

আল্লাহ্‌ এক – কথাটার অর্থ কী?

আপনি কি জানেন যে, প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (সা)-এর ইসলাম প্রচারের পূর্বেও মক্কার কুরাইশরা সর্বশক্তিমান আল্লাহয় বিশ্বাস করতো? শুধু তাই না, তারা নিজেদেরকে ইব্রাহীম (আ) ও ইসমাইল (আ) প্রচারিত ইসলাম ধর্মের সঠিক অনুসারী বলে মনে করত। প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (সা) যখন ইসলাম ধর্মের কথা বলা শুরু করলেন, তারা জিজ্ঞেস করলো – এ আবার কোন্‌ নতুন ধর্ম নিয়ে এসেছ তুমি? আমরা তো এক আল্লাহ্‌তেই বিশ্বাস করি! আর, তুমি কিনা বলতে চাও আমরা ভুল পথে আছি?

জিজ্ঞেস করো, ‘এই পৃথিবী এবং এতে যা আছে তা কার, যদি তোমরা জানো?’ তারা ত্বরিৎ বলবে, ‘তা আল্লাহর’। বলো, ‘তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?’ – (সূরা মু’মিনুন ২৩:৮৪-৮৫)

সুতরাং, বুঝাই যাচ্ছে, কুরাইশবাসীরা এক আল্লাহয়  বিশ্বাস করা বলতে যা বুঝতো আর ইসলাম এক আল্লাহয় বিশ্বাস করা বলতে যা বুঝায় এই দুইয়ের মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য আছে। ইসলামকে কুফরী থেকে পার্থক্য করার জ্ঞান যদি আমাদের মধ্যে না থাকে, তাহলে আমরাও মুখে বলবো যে হ্যাঁ আমরা এক আল্লাহয় বিশ্বাসী, পাসপোর্টে – বার্থ সার্টিফিকেটে আমাদের ধর্ম হিসাবে ‘ইসলাম’ লেখা থাকবে, কিন্তু আল্লাহর বিচারে আমরা অমুসলিম, মুশরিক হয়ে থাকবো।

 তাওহীদ কী?

God is Oneইসলামে আল্লাহর একত্ববাদের ধারণাকে তাওহীদ বলে। যখনই তাওহীদ লংঘিত হয়, তখনি শিরক হয়। তাই তাওহীদ কে বুঝা আমাদের প্রত্যেকের জন্য খুবই জরুরী। সত্যি বলতে কি, প্রথম নবী আদম (আ) থেকে শুরু করে শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা), সবার জীবনের উদ্দেশ্যই ছিল এই পৃথিবীতে তাওহীদকে প্রতিষ্ঠা করা।

আলোচনার সুবিধার্থে ইসলামী স্কলারেরা তাওহীদকে তিনভাগে বিভক্ত করেছেন। এই তিনরকম তাওহীদের বর্ণনা দিয়েই বিস্তারিত পড়ুন

ধর্মের কী দরকার? মানবতাবাদীতাই কি শ্রেষ্ঠ ধর্ম নয়?

peace-symbol

প্রশ্ন ১: আচ্ছা ধর্মের দরকার কি আমি এটাই বুঝি না। সেই প্রাচীন যুগ তো এখন আর নাই। এখন আমরা সভ্য, বুদ্ধিমান প্রানী। মানবতাবাদীতাই কি শ্রেষ্ঠ ধর্ম নয়?

উত্তর: মানবতাবাদীতা কেন শ্রেষ্ঠ ধর্ম না তার অনেকগুলো কারণ আছে, নিচের তার কয়েকটি উল্লেখ করছি।

এক – মানবতাবাদীতার সমস্যা হলো যে মানবতাবাদীতার কোন স্ট্যান্ডার্ড নাই। যেমন, আমরা সবাই জানি যে আমাদের উচিত বাবা-মার সাথে ভালো ব্যবহার করা। কিন্তু, কতটুকু ভালো ব্যবহারকে ভালো ব্যবহার বলবো? কে এটার স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করে দিবে? অথচ, ইসলাম বলে, বাবা-মার সাথে এমনভাবে ভালো ব্যবহার করো যে তাদের প্রতি কখনো উহ্‌ শব্দ পর্যন্ত করবে না। এমনিভাবে, মানুষের জীবনের প্রতিটা কাজের স্ট্যান্ডার্ড ধর্ম (বিশেষ করে ইসলাম) নির্ধারিত করে দেয়, ফলে পথহারা মানুষ পথ খুঁজে পায়।  বিস্তারিত পড়ুন