ইসলামের এক-তৃতীয়াংশ জ্ঞান আছে যে হাদিসটিতে

hadith-01-arabic

আমীরুল মুমিনীন আবু হাফস্ উমার ইবন আল-খাত্তাব (রা) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন—

আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) কে বলতে শুনেছি—

“সমস্ত কাজের ফলাফল নির্ভর করে নিয়্যতের উপর, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়্যত করেছে, তাই পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়েছে, আর যার হিজরত দুনিয়া (অর্থাৎ, পার্থিব বস্তু) আহরণ করার জন্য অথবা মহিলাকে বিয়ে করার জন্য তার হিজরত সে জন্য বিবেচিত হবে যে জন্য সে হিজরত করেছে।”

[সহীহ্ আল-বুখারী: ১/১, সহীহ্ মুসলিম: ২০/৪৬৯২]

প্রেক্ষাপট: রাসূলুল্লাহ (সা) এই কথাটি বলেছিলেন, যখন জানা গিয়েছিল যে এক ব্যক্তি বিস্তারিত পড়ুন

ইসলাম, ঈমান ও ইহসান

SeekersHub-এর  Absolute Essentials of Islam: Basic Hanafi Jurisprudence কোর্সের কোর্স ম্যাটেরিয়ালের ছায়া অবলম্বনে আমার নিজের ভাষায় রচিত। লেখাটি কোর্স নোট ও লেকচারের হুবহু প্রতিলিপি নয়।

প্রায় দেড় হাজার বছর আগের কথা। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে বসে আছেন। এমন সময়ে এক আজব ঘটনা ঘটল। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)’র জবানী থেকেই ঘটনাটি শোনা যাক।  বিস্তারিত পড়ুন

পিছনে পড়ে যাওয়া থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা- ৪র্থ কিস্তি: নিঃশর্ত আনুগত্য (অনুবাদ)

১ম কিস্তি, ২য় কিস্তি, ৩য় কিস্তি

ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মুখ ফিরিয়ে নেয়া আমাদের বুক ভেঙ্গে দেয়। কিন্তু সেই বন্ধু যদি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হন, যার জন্য আপনি আপনার নিজেকে, নিজের বাবা-মা কে উৎসর্গ করে দিতে পারেন, তিনি যদি মুখ ঘুরিয়ে নেন, সেই বেদনা তো হৃদয়ে ছুরির আঘাতের থেকেও তীব্র হওয়াই স্বাভাবিক।???????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????

কা’ব ইবন মালিকের বর্ণনায় তার হৃদয়ের যন্ত্রণা ফুটে উঠেছেঃ

“… নামাযের পর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সাহাবীদের নিয়ে বসতেন, তখন আমিও সেখানে যেতাম। রাসুলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাম দিয়ে ভাবতাম সালামের জবাবে রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঠোঁট নড়ল কিনা। এরপর আমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতাম আর লুকিয়ে লুকিয়ে তাঁকে দেখতাম। যখন আমি নামাযে ব্যস্ত হয়ে যেতাম, তখন তিনি আমার দিকে মুখ ফিরাতেন, কিন্তু আমি যখন তাঁর দিকে তাকাতাম, তিনি মুখ ঘুরিয়ে নিতেন।

মরিয়া হয়ে কা’ব তার প্রিয় রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চেহারা মুবারকের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। তার আশা ছিল রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি একটিবারের জন্যেও তাকান, শুধু ঠোঁট নেড়ে হলেও সালামের উত্তর দেন।

কা’বের দুঃখের কারণ ছিল রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি আদেশ না মানা। আর এখন আমরা তো হরদম তার আদেশ- নিষেধ, পছন্দ- অপছন্দ অমান্য করি। তিনি যে এখন আমাদের মাঝে নেই, আমাদেরকে তিরস্কার করার জন্য! অথচ আমরা ভুলে যাই যে তাঁর সকল আদেশ- নিষেধ, ভালো লাগা- মন্দ লাগা, সবই সংরক্ষিত আছে তাঁর সুন্নাহর মধ্যে, যাতে আমরা মেনে চলতে পারি।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “আমার উম্মতের সকলেই জান্নাতে যাবে; কেবল তারা ছাড়া যারা অস্বীকার করবে।” তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলঃ “হে আল্লাহ্‌র রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), কারা অস্বীকার করবে”? তিনি বললেনঃ “যেই আমার আনুগত্য করবে, সেই জান্নাতে যাবে আর যে আমাকে অমান্য করবে, সেই অস্বীকার করল।” (বুখারী)

রাসুলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভালোবাসা প্রশংসনীয় কেবল নয়, প্রতিটি মুসলমানের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। কিন্তু আমাদের জন্য এর থেকেও বড় চিন্তা হওয়া উচিতঃ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেঁচে থাকলে তিনি আমাদের ভালোবাসতেনতো?

আমাদের একজন ধার্মিক পূর্বপুরুষ আল রাবী বিন খাইতামা ছিলেন উন্নত চরিত্রের অধিকারী। তার কথাবার্তা ছিল কোমল, তার উঠা বসা ছিল ভালো লোকজনের সাথে। আব্দুল্লাহ ইবন মাস’উদ (রা) রাসুলের (ঘনিষ্ঠ) সাহাবী হওয়ার কারণে তাঁর পছন্দ অপছন্দ ভালোভাবে জানতেন। তিনি আল রাবীকে একদিন ডেকে বললেন, “হে আবু ইয়াযীদ, আল্লাহ্‌র রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি তোমাকে দেখতেন, ভালোবাসতেন!”

আমাদের আনুগত্যের মাত্রা কতখানি? সুন্নাহ আমরা কতটুকু মেনে চলি? আমাদের দেখে কি তিনি খুশী হবেন? ভালোবাসবেন আমাদের?

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদিও মহান চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, তাও তিনি কা’ব (রা) থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন; তার সালামের জবাব দেয়া বন্ধ করে দিলেন। তাঁর এটা করার কারণ ছিল এই তিনজনের ব্যাপারে আল্লাহ্‌র আদেশ, আর কিছুই না।

আল্লাহ্‌র রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই আচরণ থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে ইমাম, নেতা বা স্কলার (যাকে অনেক লোক মেনে চলে) যদি চান তাহলে সংশোধনের উদ্দেশ্যে কাউকে বয়কট করতে পারেন। তবে যদি ইতিবাচক প্রভাব না ফেলে, দোষী ব্যক্তির যদি সংশোধন না হয়, তাহলে এই ব্যবস্থা বন্ধ করে দিতে হবে।

ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে কা’ব এর দিন কাটতে থাকল।

“অবশেষে যখন লোকেদের কঠোর ব্যাবহার অনেক দিন স্থায়ী হয়ে গেল, তখন একদিন আমি আবূ ক্বাতাদাহ (রাদিয়াল্লাহুআনহু)এর বাগানের দেওয়াল ডিঙিয়ে ঢুকলামসে (আবূ ক্বাতাদাহ) আমার চাচাতো ভাই এবং আমার সবচেয়ে পসন্দের লোকছিলআমি তাকে সালাম দিলামকিন্তু আল্লাহর কসম! সে আমাকে সালামের জওয়াব দিলনাআমি তাকে বললাম, হে আবূ ক্বাতাদাহ! আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তুমি কি জান না যে, আমি আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ভালবাসি?সে চুপ থাকলআমি দ্বিতীয়বার তাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, এবারেও সে চুপ থাকলআমি তৃতীয়বার তাকে কসম দিয়ে প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলে সে বলল, আল্লাহ তাঁর রাসূলই বেশী জানেন

দুজনই একজন আরেকজনকে ভালবাসতেন। কিন্তু আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের ভালোবাসা তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা আর আত্মীয়তার বন্ধন থেকে অনেক বেশি ছিল।

রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চোখের আড়ালে আবু ক্বাতাদাহ (রা) চাইলেই তার প্রিয় ভাইয়ের সাথে কথা বলতে পারতেন।কিন্তু মদীনার এই প্রজন্ম যে রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজ হাতে গড়া! তাদের আনুগত্য তো কোন মানুষের আনুগত্য ছিল না; তারা নিঃশর্ত অনুগত ছিলেন কেবল মাত্র আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার। রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চোখের আড়ালে রাসুলকে অমান্য করার ওজুহাত খোঁজা তাদের রীতি বা অভ্যাস ছিল না।

তাদের মুরাকাবা বা সতর্কতা যে কি প্রচণ্ড মাত্রার ছিল তা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। তাদের কাছে আল্লাহ্‌র আনুগত্য শুধু রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও অন্য সাহাবার উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। আল্লাহ্‌র আনুগত্য তাদের অস্থি- মজ্জায় মিশে ছিল অস্তিত্বের অংশ হিসেবে। এটা ছিল তাদের সব সময়ের সঙ্গী। নিষিদ্ধ বস্তু বা বিষয় থেকে তারা বিরত থাকতেন একদম নির্জনেও। কারণ আল্লাহ্‌তো সর্বজ্ঞানী, সর্বদ্রষ্টা।

আবু ক্বাতাদাহ (রা)জানতেন যে কা’ব (রা) আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলকে ভালোবাসেন।তা সত্ত্বেও কা’ব যখন তাকে আল্লাহ্‌র কসম দিয়ে জানতে চাইলেন তখন তার উত্তর ছিল, “আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলই বেশী জানেন।” এটা আসলে কা’বের (রা) প্রশ্নের জবাব ছিলনা, অথবা এটা বলার মাধ্যমে তিনি কা’বের সাথে কথোপকথন করেছেন এটাও বলা যাবে না।

এ কথা শুনে আমার চোখ থেকে পানি ঝরতে লাগল এবং যেভাবে গিয়েছিলাম আমি সেইভাবেই দেওয়াল ডিঙিয়ে ফিরে এলাম

যুবক এবং শক্ত- সবল হওয়ার পরও কা’ব এর পক্ষে পরীক্ষাটা অসহনীয় হয়ে গিয়েছিল। মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা তার অসহ্য লাগছিল। কিন্তু পরীক্ষার মাত্রাতো কমলোই না, বরং বেড়ে গেল!

এর মধ্যে একদিন আমি মদীনার বাজারে হাঁটছিলামএমন সময় শাম এর এক নাবাতীকে (অর্থাৎ খ্রীস্টান কৃষক)যে মদীনায় খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করতে এসেছিল, বলতে শুনলাম, কে আমাকে কা’ব ইবন মালিককে দেখিয়ে দেবে?” লোকেরা আমার দিকে ইঙ্গিত করতে লাগলফলে সে ব্যক্তি আমার নিকটে এসে আমাকে  ‘গাসসানএর বাদশার একটি  চিঠি দিলচিঠিতে লিখা ছিলঃ

— অতঃপর, আমি খবর পেয়েছি যে, আপনার সাথী (অর্থাৎ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনার সাথে রুঢ় ব্যবহার করেছেনআল্লাহ আপনাকে লাঞ্ছিত বঞ্চিত অবস্থায় থাকার জন্য সৃষ্টি করেন নিআপনি আমাদের কাছে চলে আসুন; আমরা আপনাকে সমবেদনা জানাব

কা’ব ইবন মালিক (রা) শাম এর এক রাজার কাছ থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন! এক অবিশ্বাসী রাজা যে তাকে মদীনার ‘লাঞ্ছনা- গঞ্জনা’ থেকে মুক্তি দিয়ে ‘নিরাপত্তা’ দিতে চায়!

কী জবাব দিলেন কা’ব?

চিঠি পড়ে আমি নিজেকে বললাম, ‘এইটাও একটা পরীক্ষা।’

কী আশ্চর্য মানুষ! তিনি ভাবতে পারতেন যে আল্লাহ্‌র কাছ থেকে বহু প্রতীক্ষিত পরিত্রাণ এসে গেছে। ৩৩ বছর বয়সে নতুন জীবনের সন্ধানে নতুন দেশে পাড়ি দিতে পারতেন তিনি। কিন্তু তার একনিষ্ঠতার কারণে আল্লাহ্‌ তাকে বুঝিয়ে দিলেন যে এটাও তার পরীক্ষারই অংশ। আল্লাহ্‌ তাকে আবার হোঁচট খাওয়া থেকে রক্ষা করলেন।

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ

 

কিছু লোক বলে, আমরা আল্লাহর উপর বিশ্বাস এনেছি; কিন্তু আল্লাহর পথে যখন তারা নির্যাতিত হয়, তখন তারা মানুষের নির্যাতনকে আল্লাহর আযাবের মত মনে করে।(সূরা আল- আনকাবূতঃ ১০)

ইবন আব্বাস (রা) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন “এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ্‌র রাস্তায় পরীক্ষা এলে এরা ইসলাম ত্যাগ করে ফেলে।” (তাফসীর ইবন কাসির)

আল্লাহ্‌র পথে পরীক্ষা আসলে কীভাবে অবিচল থাকতে হবে, আমরা এখানে সেই শিক্ষা পাই। সত্যের পথে চলতে গিয়ে যদি বাধা আসে, তাহলে কি আমরা সেই পথে হাঁটাই বন্ধ করে দিব? নাকি আমরা এই মহান সাহাবীর অনুসরণ করে ধৈর্য ধরে আল্লাহ্‌র করুণার অপেক্ষা করব?

এইটা আপাতদৃষ্টিতে একটা বড় পরীক্ষা ছিল কিন্তু আদতে এটা ছিল বড় এক আশীর্বাদ। এই লোভনীয় আমন্ত্রণের প্রতি কা’বের (রা) প্রতিক্রিয়া থেকে মুসলমানরা বুঝতে পারলেন যে কা’বের (রা) ঈমানের কোন হেরফের হয়নি বয়কটের কারণে। যত শক্ত পরীক্ষাই হোক না কেন, একবারের জন্যেও কা’ব (রা) ধর্মত্যাগের কথা ভাবেন নি। তিনি ঐশ্বর্য আর প্রতিপত্তির লোভে দৌড়ানো দুর্বল ঈমানদার ছিলেন না।

আল্লাহ্‌ বলেনঃ

মানুষ কি মনে করে যে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে যে, আমরা বিশ্বাস করি এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নেবেন মিথ্যুকদেরকে। (সূরা আল-আনকাবূতঃ ২-৩)

fulপরীক্ষার মাধ্যমেই বিশ্বাসের পরিচয় পাওয়া যায়। আল-হাসান আল-বাসরি বলেছেনঃ সুখের সময় মানুষের আসল অবস্থা গোপন থাকে। পরীক্ষায় পড়লে পরে তার আসল পরিচয় বের হয়ে আসেঃ বিশ্বাসীর বিশ্বাস আর ভণ্ডের ভণ্ডামি।

এই পরীক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ প্রকাশ করে দিলেন যে কা’বের (রা) মনে ভণ্ডামির (মুনাফিক) লেশমাত্রও নেই, তিনি আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের (সা) উপর অকৃত্রিম বিশ্বাস রাখেন। এই পরীক্ষা আসলে ছিল তার উপর আল্লাহ্‌র কল্যাণ বৃষ্টি, যা তার শুষ্ক হৃদয়ে হিমেল পরশ দিয়ে যায়।

বাগানে যখন আগাছা আক্রমণ করে তখন আগাছার ভিড়ে সুন্দর ফুলটিও ঢাকা পড়ে যায়। সেগুলোকে খুঁজে বের করা মালীর কাজ। একবার বের হলেই কিন্তু ফুল তার স্বভাবজাত সৌরভ ছড়াবে। আমাদের জীবনকে ফুলেল করে তুলবে, সহজ করবে। আল্লাহ্‌ তার অপরিসীম জ্ঞানের আলোকে আমাদের পরীক্ষা নেন। এই পরীক্ষা থেকে কা’ব (রা) যেমন অনেক কিছু শিখেছিলেন, তেমনি আমাদেরকেও প্রতিটি পরীক্ষা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পরীক্ষা নিয়ে এমন চিন্তা করলেই পরীক্ষার কষ্ট কমে আর আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা বাড়ে।

নিজের পরীক্ষার জ্বালাময় যন্ত্রণা লাঘবের জন্য কা’ব (রা) আগুন জ্বালালেন! সে আগুন বিশ্বাস আর নিঃশর্ত আনুগত্যের!

চিঠিটি আমি চুল্লীতে ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দিলাম।

 

মূল লিখা এইখানেঃ http://muslimmatters.org/2010/06/10/lessons-in-staying-behind-%E2%80%93-part-4-unconditional-obedience/

পিছনে পড়ে যাওয়া থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা- ৩য় কিস্তি: পৃথিবী যখন অচেনা! (অনুবাদ)

১ম কিস্তি, ২য় কিস্তিLonely Planet Earth Wallpaper

সততার পরীক্ষা! রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে কা’ব ইবন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এলেন তার পিছনে থেকে যাওয়ার কারণ নিয়ে। দুরুদুরু বুকে কা’ব (রা) তার প্রিয় রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিকে তাকালেন। একটু বুঝি হাসলেন নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! কিন্ত এই হাসিতো সবসময়কার হাসির মত না! একটু অন্যরকম বুঝি?

আমিও তাঁর কাছে গেলাম। যখন তাঁকে সালাম দিলাম, তখন তিনি রাগতঃ একটা হাসি দিলেন। তারপর বললেন, ‘‘সামনে এসো!’’ আমি তাঁর সামনে এসে বসলাম।

হাসির মাধ্যমে যে অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করা যায়, তা বুঝানোর জন্য ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) কবিতা উদ্ধৃত করে বলেনঃ

إذا رأيت نُيُوبَ اللَيثِ بارزة                            فلا تَظُنَنَ أن اللَيثَ مُبتسمُ
সিংহের দাঁত দেখে                              ভেবো না সে তোমায় দেখে হাসছে!

কা’বকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কাছে ডেকে নিয়ে কথা বলার মাধ্যমে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কার্যকর আলাপচারিতার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন। দূর থেকে কথা বলার চেয়ে কাছ থেকে বলাটা বেশি ফলপ্রসূ হয়।
এরপর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা’বকে (রা) সেই প্রশ্ন করলেন যা গত কয়দিন ধরে কা’বকে কষ্ট দিচ্ছিলঃ

তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ ‘তুমি যাওনি কেন? ? উট কেননি?

সত্যবাদীতা থেকে যে সৎ সাহস আসে, সেই সাহসে বলীয়ান কা’ব (রা) বললেনঃ

আমি বললাম, ‘‘হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি যদি আপনি ছাড়া দুনিয়ার অন্য কোন লোকের কাছে বসতাম, তাহলে অবশ্যই কোন মিথ্যা ওজর পেশ করে তার অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে যেতাম। আল্লাহ আমাকে যথেষ্ট বাকপটুতা দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি জানি যে, যদি আজ আপনার সন্তুষ্টির জন্য মিথ্যা বলি, তাহলে খুব তাড়াতাড়িই আল্লাহ আপনাকে আমার উপর অসন্তুষ্ট করে দেবেন। আর আমি যদি সত্যি বলি, তাহলে আপনি আমার উপর অসন্তুষ্ট হবেন ঠিকই, কিন্তু আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রত্যাশী।

প্রগাঢ় বিশ্বাস! অনিশ্চয়তার লেশমাত্রও নেই কা’বের (রা) মধ্যে! কারণ তিনি জানতেন সত্য ছাড়া অন্য কিছু সেদিন তাকে রক্ষা করতে পারত না; সুতরাং তাকে যদি কিছুদিনের জন্য পরীক্ষায় পড়তেও হয়, তবু সত্যই তার একমাত্র অবলম্বন। কা’ব (রা) বিতার্কিক ছিলেন, ছিলেন বাকপটু। কিন্তু তার তাকওয়া সেদিন তাকে মিথ্যা বলা থেকে বাঁচিয়ে দিল। তার দক্ষতা সম্মন্ধে যেমন তার পূর্ণ ধারণা ছিল, একই সাথে নিজের সীমাবদ্ধতাও তিনি জানতেন। সব সময় বা সবখানে তো আর সব দক্ষতা কাজে আসে না! স্রষ্টা প্রদত্ত ক্ষমতা দিয়ে স্রষ্টার নাফরমানি করে তাঁর অসন্তোষ কুড়ানোর চেয়ে বড় মূর্খতা আর কি হতে পারে!

তিনি কথা বলতে থাকলেন। এই কথাগুলোর মধ্য দিয়ে তার পরীক্ষা শুরু হল; কিন্তু আসলে এটি ছিল ক্ষমার পথে তার প্রথম পদক্ষেপ।

প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহর কসম! আমার কোন অসুবিধা ছিল না। আল্লাহর কসম! আপনার সঙ্গ ছেড়ে পিছনে থাকার সময় আমি যতটা সমর্থ ও সচ্ছল ছিলাম ততটা আর কখনো ছিলাম না।’

প্রতিটি কথাই ছিল খাঁটি সত্য। এমন এক ব্যক্তির কথা এগুলো যিনি আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেই ভয় করেননি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে কা’ব (রা) মিথ্যা অজুহাত দূরে ঠেলে শুধু সত্যই বললেন।

আল্লাহ তাঁর বান্দাহদের প্রতি অশেষ মেহেরবান। বান্দাহর মন যদি নির্ভেজাল হয়, সে যদি সত্যবাদী হয়, তাহলে আল্লাহ্‌ তাকে গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখেন। বান্দাহর অন্তরের অন্তঃস্থলের খবরও আল্লাহ্‌ রাখেন। তিনি তাই জানেন তাঁর বান্দাহর নিয়ত সৎ কিনা। সেদিন আল্লাহই কেবল কা’বকে (রা) মিথ্যা থেকে বাঁচিয়েছিলেন, যেদিন অন্য অনেকেই মিথ্যা বলেছেন। আল্লাহ্‌র অশেষ করুণার বলেই সেদিন কা’ব এবং তার দুই সাথী (রা) অনন্ত শাস্তি থেকে রেহাই পান।

কা’বতো (রা) সত্য বললেন, কিন্তু তার প্রিয় নবীর (সাঃ) প্রতিক্রিয়া কী হল? তিনি কি রাগ করলেন স্পষ্টবাদিতার জন্য? তিনি কি তাকে নির্লজ্জ মনে করলেন? তিনি কি তাকে তিরস্কার করলেন? কোনটিই না! রাসুলুল্লাহর একমাত্র প্রতিক্রিয়া ছিলঃ

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ

أما هذا فقد صدق فقم حتى يقضي الله فيك

“এই লোক নিশ্চিতভাবে সত্য বলেছে। তুমি এখন যাও, এবং আল্লাহর ফয়সালার অপেক্ষা কর।

সত্যবাদীতার এই যে ছাড়পত্র কা’ব (রা) রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছ থেকে পেলেন, তা তার উঁচু মর্যাদারই পরিচয় দেয়। এইরকম দুঃসময়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের এই সাক্ষ্য যে কা’ব (রা)-এর জন্য প্রশান্তিদায়ক ছিল তা বলাই বাহুল্য। নিজেকে এরকম একটা কঠিন পরীক্ষার সম্মুখে কল্পনা করেই দেখুন! এমন পরিস্থিতিতে যদি সমাজের নেতৃস্থানীয় এবং গ্রহণযোগ্য কেউ আপনার পাশে দাঁড়ায়, কেমন লাগবে আপনার? আর এখানেতো স্বয়ং রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা’বের (রা) সাক্ষী!

কা’ব উঠে পড়লেন। আল্লাহ্‌ যা চান তা হবেই, আর যা চান না, তা কখনোই হবে না। কা’ব নিজের জন্য তাই আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন। কিন্তু মনটা তার বড় ছোট হয়ে গেল। সত্য বললেন ঠিকই, কিন্তু ব্যাপারটাতো মীমাংসা হলো না। কি সিদ্ধান্ত আসবে আল্লাহ্‌ আর তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছ থেকে? কবে? এর কোন উত্তর তার জানা ছিল না।

আমি উঠে পড়লাম। আমার পিছন পিছন বনু সালামাহ (গোত্রের) কিছু লোক এল এবং বলল, ‘আল্লাহর কসম! এর আগে তুমি কোন পাপ কাজ করেছ বলে আমাদের জানা নেই। অন্যরা যেমন অজুহাত দিয়েছে, তুমি সেটা করতে পারলেনা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেই তো তোমার জন্য যথেষ্ট হতো।’ কা‘ব বলেন, ‘আল্লাহর কসম! তারা আমাকে সত্য বলার জন্য এতো কথা শোনাল যে আমার ইচ্ছা হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে প্রথমবার মিথ্যা বলেছি বলে স্বীকার করি। আমি তাদের কাছে জানতে চাইলাম,‘আমার ভাগ্যে যা ঘটেছে, এমনটি কি আর কারো সাথে ঘটেছে?’ তারা বললো,‘হ্যাঁ। আরো দু’জন তুমি যা বলেছ তাই বলেছে এবং তাদেরকে সেই কথাই বলা হয়েছে যা তোমাকে বলা হয়েছে।’ আমি বললাম, ‘তারা কারা?’ তারা বলল, ‘‘মুরারাহ ইবনে আর-রাবী‘ আল-আমরী ও হিলাল ইবনে উমাইয়্যাহ আল-ওয়াক্বেফী।’ এই দু’জন যাদের নাম তারা বলল, তারা ধার্মিক লোক ছিলেন, দুজনই বদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন; এরা ছিলেন আমার জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। এদের নাম শুনে আমি আর সিদ্ধান্ত বদলাইনি।

কা’ব যখন কথা পরিবর্তনের জন্য রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ফেরত যাবেন বলে ভাবছেন, তখন আল্লাহ্‌ কা’বকে (রা) আবারো পা ফসকানো থেকে রক্ষা করলেন।

কা’ব (রা) তখন সান্তনা খুঁজছেন, দুঃখের সাথী পাওয়া যায় কিনা দেখছেন। যখন তিনি জানলেন যে আরো দুজন ন্যায়নিষ্ঠ সাহাবী একই অবস্থায় আছেন, তিনি খানিকটা হাল্কা বোধ করলেন। নিজের অবস্থানে অটল থাকলেন।

এই ব্যাপারটাতেও আমাদের জন্য শিক্ষা আছেঃ দুঃখের সময় সমব্যথী, যে কিনা একইরকম অবস্থায় আছে, খুঁজে পেলে দুঃখ লাঘব হয়। এটা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি!
এটাই হয়তো কা’বের (রা) প্রতি আল্লাহর দয়া ছিলো যে এমন এক কঠিন সময়ে তিনি সঙ্গী পেলেন। এতে করে হয়তো তার দৃঢ় থাকা সহজ হয়েছিল।

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’লা বিশ্বাসীদের বলেনঃ

শত্রুর পিছু নিতে দুর্বলতা দেখিয়ো না। যদি তোমরা কষ্ট পেয়ে থাক, তারাও তো তোমাদের মতই কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু তোমরাতো আল্লাহর কাছে তা প্রত্যাশা কর, যা তারা করে না। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা আন নিসাঃ ১০৪)

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত এক হাদীসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
“তোমার থেকে যারা নিচের স্তরে রয়েছে তাদের দিকে তাকাও। যারা তোমার থেকে উপরের স্তরে তাদের দিকে তাকিয়ো না। কারণ উপরের দিকে তাকালে আল্লাহ্‌ তোমাকে যে নিয়া’মাত দিয়েছেন তা তোমার কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। (মুসলিম) (আক্ষরিক অনুবাদ করা হয়নি- অনুবাদক)

দুনিয়ার পরীক্ষায় সমব্যথী থাকলে দুঃখ কমে কিন্তু মনে রাখতে হবে আখেরাতে কিন্তু সমব্যথীতে কোন কাজ হবে না। আল্লাহ্‌ বলেনঃ

 

 

 

যেহেতু তোমরা অন্যায় করেছিলে, তাই শাস্তির অংশীদার থাকার পরেও আজ তোমাদের কোন উপকার হবে না। (সূরা আল যুখরুফঃ ৩৯)

কা’ব এবং তার দুই সাথী (রা) যদিও ঠিক পথ বেছে নিলেন, তবু কিন্তু তাদের কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হল। কা’ব (রা) বলছেনঃ

(এরপর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে পিছনে অবস্থানকারীদের মধ্যে শুধুমাত্র আমাদের তিনজনের সাথে কথা বলতে সবাইকে নিষেধ করে দিলেন।’আমরা অন্যদের এড়িয়ে চলতে লাগলাম এবং তাদেরও আমাদের প্রতি আচরণ বদলে গেল। অবস্থা এমন হল যে আমার চেনা পৃথিবীই আমার কাছে অচেনা হয়ে গেল। এইভাবে আমরা ৫০ রাত কাটালাম। আমার দুই সাথী ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিলেন এবং অবিরাম কান্নাকাটি করতে থাকলেন। তিনজনের মধ্যে আমি বয়সে সবচেয়ে ছোট এবং শক্ত সমর্থ ছিলাম। তার ফলে আমি ঘর থেকে বের হয়ে মুসলিমদের সাথে নামায পড়তাম আর বাজারে ঘোরাফেরা করতাম। কিন্তু কেউই আমার সাথে কথা বলত না।

মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াটা একটা কঠিন পীড়াদায়ক পরীক্ষা ছিল কা’বের (রা) জন্য। এতোই কষ্টকর ছিল যে পৃথিবীটাই তার কাছে অচেনা লাগছিল।

ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতে পাপের প্রায়শ্চিত্তে এই যে দুঃখবোধ, এটা আসলে হৃদয়ের সজীবতার লক্ষণ। সজীব হৃদয়ের কারো কাছে জড় বস্তুকেও এমন সময় অচেনা লাগে। সে একাকীত্বের জ্বালা অনুভব করে। জীবনটা তার নীরস হয়ে যায়।

মুনাফিকদের জন্য এই অচেনা অনুভূতি আরো তীব্র হয়। কিন্তু হৃদয় তাদের রোগাক্রান্ত। সুতরাং পাপ তাদের আর পীড়া দেয় না। কত বড় হতভাগা!

সত্যিকারের বিশ্বাসীর জীবন্ত হৃদয় পাপের ভারে উদ্বিগ্ন হয়। সে ভীত হয়। আব্দুল্লাহ ইবন মাস’উদ (রা) বলেনঃ “বিশ্বাসীর কাছে তার পাপ এমন যেন সে পাহাড়ের পাদদেশে বসে আছে, আর পাহাড় এখনই তার উপর ভেঙ্গে পড়বে। অপরদিকে পাপীর কাছে তার পাপ নাকের ডগায় বসা মাছির মত, যা সে হেলায় তাড়িয়ে দেয়।” (বুখারী)

বিশ্বাসীর ভালো কাজ তাকে প্রশান্তি দেয়। সে নিরাপদ বোধ করে।

 

 

 

বল, আল্লাহর দয়া ও মেহেরবাণীতে- এতেই তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ। (সূরা ইয়ুনুস- ৫৮)

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “যদি তোমার ভালো কাজ তোমাকে খুশী করে, আর খারাপ কাজ কষ্ট দেয়, তাহলে তুমি বিশ্বাসী।” (আহমাদ, ইবন মাজাহ)।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে মুসলিম সমাজকে এই তিন সাহাবীকে বয়কট করতে বললেন, এটা তাদের সত্যবাদীতার আরেকটি প্রমাণ। যারা মিথ্যা ওজুহাত দিয়েছিল, তাদের কিন্তু এমন কোন পরীক্ষায়ই পড়তে হলনা। যেহেতু আল্লাহর কাছে এই তিনজনের স্থান অনেক উঁচুতে, তাই তিনি তাদেরকে এমন জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার মত শক্ত পরীক্ষায় ফেললেন। প্রশ্ন উঠতে পারে যে মিথ্যাবাদীরা তাহলে এতো সহজে পার পেয়ে গেল কেন? উত্তরে বলা যেতে পারে যে মুনাফিকদের ভণ্ডামির শাস্তি হিসেবে সামাজিক বয়কট করাটা গুরুপাপে লঘুদণ্ড হয়ে যেত। কপটতা বা ভণ্ডামি মানসিক অসুস্থতা । বয়কটে এর কোন প্রতিকার হওয়ার না।

iStock_000016288715Smallসর্বজ্ঞানী আল্লাহ্‌র অপার করুণা যে তিনি তার খাঁটি বান্দাহদের ভুলের শাস্তি আখেরাতের আগে দুনিয়াতেই দিয়ে দেন। এতে করে খাঁটি বিশ্বাসী হৃদয় সতর্ক হয়, সচেতন হয়। আনাস (রা) বর্ণনা করেন যে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “যখন আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দাহর ভালো চান, তখন পৃথিবীতেই তাকে তার পাপের শাস্তি দিয়ে দেন। আর যখন বান্দাহর খারাপ চান, তখন তার হিসাব নিতে তিনি কোন তাড়াহুড়া করেন না। পুনরুত্থান দিনেই তিনি তার হিসাব নিবেন।”(তিরমিযী)

ইবন আল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আল্লাহ্‌ যাকে ভালোবাসেন না, তাকে তিনি পাপের মধ্যে ছেড়ে দেন। তাকেপাপ করা সত্ত্বেও দুনিয়ার প্রাচুর্য দান করেন। যে ব্যক্তি স্রষ্টা সম্বন্ধে উদাসীন, নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত, সে ভাবে এসব প্রাচুর্য বুঝি তার প্রাপ্য। সে জানেনা এই প্রাচুর্য আদতে তার জন্য অধঃপতন, যা তাকে পরকালীন শাস্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। (যাদ আল মা’দ) (ভাবানুবাদ)

৫০ টি দিন! কা’ব আর তার সাথীরা (রা) সমাজচ্যুত। পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্মের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা নিশ্চয়ই অন্য রকম কষ্টদায়ক ছিল। সত্যনিষ্ঠ এই তিনজন হয়তো জীবনে কিছু যাতনা ভোগ করলেন ঠিকই, কিন্তু সফল পরিণাম তাদের পক্ষেই ছিল।

মূল লেখা এখানেঃ http://muslimmatters.org/2010/06/02/lessons-in-staying-behind-part-3-when-the-earth-is-strange/

পিছনে পড়ে যাওয়া থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা- ২য় কিস্তি: “কা’ব এটা কী করল?” (অনুবাদ)

এই ধারাবাহিক আলোচনার প্রথম কিস্তিটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Camel Caravan

ক্লান্তিকর লম্বা সফর শেষে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে তাবুক পৌঁছেছেন। বাহিনী শত্রুর  মুখোমুখি হবার জন্যে তৈরি। তাদের নেতা (যিনি একই সাথে একজন রাষ্ট্রনায়ক) কিন্তু ঠিকই মনে রেখেছেন তাঁর এক প্রিয় সঙ্গীর কথা,  যিনি  তাঁদের সাথে  আসেননি।

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাবুকে পৌঁছার আগে পর্যন্ত আমার কথা জিজ্ঞেস করলেন না, তবে তাবুক পৌঁছে যখন তিনি সবাইকে নিয়ে বসলেন, তখন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কা‘ব এটা কী করল’? বনী সালামার একজন বললেন, ‘হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তার বেশ ভূষা ও অহংকারই তাকে আটকে দিয়েছে’| মু‘আয বিন জাবাল (রা.) বললেন, ‘তুমি বাজে কথা বলছ। আল্লাহ্‌র কসম! হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আমরা তার ব্যাপারে ভাল বৈ খারাপ কিছু জানি না’| রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুপ করে থাকলেন।”

নেতা যদি তাঁর কর্মীদের ভালোভাবে জানেন, তাহলে তিনি তাঁদের মধ্যে যারা  তুলনামূলক ভালো ও তৎপর তাদেরকে যেমন চিনবেন, তেমনি তাদের অনুপস্থিতিও তিনি অনুভব করবেন। অন্য আরো অনেকেইতো পিছনে পড়ে ছিল, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো তাঁদের খোঁজ নিলেন না! তিনি নির্দিষ্ট করে খবর নিলেন বিস্তারিত পড়ুন