দাঁড়ি, হিজাব ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এবং নারী-পুরুষ পারস্পরিক আচরণবিধি (অনুবাদ)

Abu Aaliyah – Surkheel Sharif-এর “Beards, Hijabs & Body Language: Gender Relations” লেখাটি থেকে অনুদিত। অনুবাদের সময়ে সামান্য পরিমার্জন করা হয়েছে আমাদের পার্সপেক্টিভের সাথে মিল রাখার জন্য। অনুবাদের অনুমতি নেয়া হয়েছে।

Man and woman

নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে ইসলাম কী বলে? এরা একে অপরের সাথে কীভাবে সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রেখে ওঠাবসা ও চলাফেরা করতে পারে? এ বিষয়ে ইসলামী শরীয়ার জ্ঞান ও বিধিনিষেধ কীভাবে প্রতিদিনের জীবনে কাজে লাগানো যায়? এই লেখায় আমরা এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। প্রথমেই আমি এই বিষয়ে শরীয়ার মূলনীতিগুলো তুলে ধরব। তারপর আমরা নারী-পুরুষ সম্পর্কের ব্যবহারিক ও প্রাসঙ্গিক দিক নিয়ে আলাপ করব। বিস্তারিত পড়ুন

ভাষা আল্লাহর একটি বিশেষ নিয়ামত

Telephone

আন্তর্জাতিক ভাষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এথনোলগ-এর তথ্যানুসারে পৃথিবীতে বর্তমানে মোট ভাষার সংখ্যা ৭,১০৫টি। [১] তন্মধ্যে বাংলাদেশেই আছে ৪৪টি। [২] ভাষাভাষীদের সংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীতে বাংলা ভাষার অবস্থান ৭ম। পৃথিবীর ২০২ মিলিয়ন মানুষ এ ভাষায় কথা বলে, যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৩.০৫ শতাংশ। বিস্তারিত পড়ুন

রাসুল (ﷺ)-এর তিনটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট যা খুব কম মানুষের মাঝেই পাওয়া যায়

Shadow

রাসুল (ﷺ)-এর চারিত্রিক গুণাবলির বিবরণ দিতে গিয়ে এক সাহাবী তাঁর তিনটি গুণ বর্ননা করেছেন:

ক) তিনি ছিলেন ব্যাথার সমুদ্রে নিমজ্জিত;
খ) তিনি থাকতেন সবসময় চিন্তিত; এবং
গ) কখনো তিনি স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলতে পারতেন না।

সাধারণভাবে চিন্তা করলে এই তিনটি অবস্থা একজন মানুষের কোনো গুণ হতে পারে না। বরং, সর্বদা দুঃখ-কষ্টে চিন্তিত ও অস্থির থাকা – এটা তো আল্লাহর এমন এক শাস্তির নাম যা থেকে স্বয়ং রাসুল (ﷺ) সবসময় আশ্রয় চাইতেন। তাছাড়া তাঁর ব্যাপারে তো একথাও রয়েছে যে, তিনি সবসময় হাসিখুশি থাকতেন। গোমড়া মুখে তাঁকে কেউ দেখেছে এমন কোনো বর্ণনা তো পাওয়া যায় না। তাহলে একইসাথে সবসময় চিন্তিত এবং হাসিখুশি কিভাবে থাকা সম্ভব?  বিস্তারিত পড়ুন

অহেতুক তুলনা করবেন না (অনুবাদ)

উস্তাদ নুমান আলী খানের একটি লেকচার থেকে অনুদিত। অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় Nouman Ali Khan Collection In Bangla ফেসবুক পেইজে।

Bell peppers

Photo credit: Prerana Jangam, via pdpics[dot]com/photo/1965-different-bell-peppers/

কুরআন তেলাওয়াতে পারদর্শী নন এরকম একজন যুবক ভাই একদিন আমাকে একটা প্রশ্ন করেছিলেন। প্রশ্নটা ছিল এরকম – “আমি সবসময় ভালো করে কুরআন পড়ার চেষ্টা করি, কিন্তু এত চেষ্টা করার পরও আমি শুদ্ধ করে পড়তে পারি না”। তার কথা শুনে মনে হচ্ছিল তিনি খুবই আবেগী প্রকৃতির মানুষ। একদিন তিনি রেডিওতে কোনো এক প্রোগ্রামে একটা ছোট বাচ্চার কুরআন তেলাওয়াত শুনছিলেন। সেই বাচ্চাটা এত সুন্দর করে পড়ছিল যে, ওই প্রোগ্রামের শিক্ষক বলছিলেন, “সুবহানআল্লাহ! তোমার নফ্স, তোমার মন খুব পবিত্র। তুমি খুব পবিত্র। আর একারণে আল্লাহ তোমাকে এত সহজে, এত সুন্দর করে তেলাওয়াত করার ক্ষমতা দিয়েছেন”। তো এই কথা শুনে ওই যুবক চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং ভাবতে লাগলেন – আমি মনে হয় ভালো মানুষ না, এজন্যে আমি ভালো করে কুরআন পড়তে পারি না, আমার আত্মা পবিত্র না। এসব ভেবে তিনি মানসিকভাবে কষ্ট পেতে থাকলেন। যদিও আমি নিশ্চিত ওই রেডিও প্রোগ্রামের শিক্ষক এরকম কিছু বোঝাতে চাননি, তিনি নিছক সেই বাচ্চা ছেলেকে উংসাহ দেয়ার জন্য এরকম কিছু বলেছিলেন।

এই প্রেক্ষিতে আসুন আমরা একটা হাদিস দেখি, যেখানে রাসুল (স) বলেছেন ‘কুরআন তেলাওয়াতে পারদর্শী ব্যক্তিরা উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। কিন্তু, যারা (উচ্চারণগত বা অন্য কোনো সমস্যা থাকা সত্বেও) কষ্ট করে পড়ার চেষ্টা করে, তারা দ্বিগুন পুরস্কার পাবে।’ [সহিহ মুসলিম]  বিস্তারিত পড়ুন

রাসুল (ﷺ)-এর ধৈর্য ও সহনশীলতা

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র কেমন ছিল, এই প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত ও প্রসিদ্ধ একটি উত্তর হলো, তিনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। কিন্তু, সেই সর্বোত্তম চরিত্র বলতে কী বুঝায়, কোন ধরণের চরিত্রে চরিত্রবান হলে একজন সর্বোচ্চ আখলাকের অধিকারী হবেন – এর কোনো ব্যাখ্যা যদি হাদিস ও ইতিহাস গ্রন্থগুলোতে না থাকতো, আমরা হয়তো তখন বাধ্য হয়ে নিজেদের আখলাকের সাথে মিলিয়ে ভালো আখলাকের একটি রূপ দাঁড় করাতাম।

কিন্তু, রাসুলের প্রিয় সাহাবীগণ আমাদেরকে এর থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তাঁর আখলাকের পরিপূর্ণ বিবরণ, খুঁটিনাটিসহ উম্মতের মাঝে তুলে দিয়েছেন। যেগুলো পড়লে মনে হয়, আমরা যা দাঁড় করাতাম, সেটার সাথে তাঁর প্রকৃত আখলাকের শুধু যে অমিল হতো তাই নয়, এত বিশাল পার্থক্য হতো যার পরিমাণ অনুধাবন করাও হয়তো সম্ভব হতো না।

Perseverance

সেদিন সকালে বসে বসে “সবরুর রাসুল ওয়া হিলমুহু” (রাসুলের ধৈর্য এবং সহনশীলতা) সম্পর্কে যে সমস্ত ঘটনা নির্ভরযোগ্য গ্রন্থগুলোতে আছে তা খুঁজে খুঁজে পড়ছিলাম। একেকটি ঘটনা পড়তে গিয়ে আমার মতো এরকম পাষাণ হৃদয়ের মানুষের চোখেও বারবার পানি চলে আসছিল যে, একটা মানুষ এতটা ধৈর্যশীল কিভাবে হতে পারেন! নিজ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে তিনি কখনও প্রতিশোধ নেননি, এর প্রমাণে যে বিবরণগুলো হাদিস গ্রন্থে রয়েছে যে কারো পশম দাঁড়িয়ে যাবে, এও কি সম্ভব?

সহিহ বুখারিতে আনাস রা এর একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। যেই বর্ণনার মোটামুটি ভাবার্থ এরকম যে, তিনি একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মক্কার একটি রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গায়ে নাজরানের তৈরি একটি মোটা চাদর জড়ানো ছিল। হঠাৎ একজন আ’রাবি বিস্তারিত পড়ুন