মালয়েশিয়াতে চার বছর কাটানোর পর আবারও দেশে ঈদ পালন করার অভিজ্ঞতা

Makan hari raya

একটানা প্রায় পৌনে চার বছর মালয়েশিয়াতে কাটানোর পর এবার আবারও দেশে ঈদ পালন করার সুযোগ হলো। এই চার বছরে চারটি রমযান এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা মিলিয়ে মোট আটটি ঈদ সেখানে পালন করেছি। অনেক অভিজ্ঞতা। অনেক স্মৃতি।

রমযান মাস শুরু হওয়ার আগে থেকেই ওখানকার বিস্তারিত পড়ুন

বিবাহকে কঠিন করার পরিণাম সমাজে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বেড়ে যাওয়া

Bouquet of rose

Photo credit: Shahista Fatima, via pexels[dot]com/photo/flowers-roses-bouquet-love-12073/

বিবাহ একটি সুন্নত। রাসূলের স. সুন্নত। সুন্নত এই অর্থে যে স্বয়ং রাসূল স. বিবাহ করেছেন। মুহাদ্দিসদের পরিভাষায় রাসূলের স. যে কোনো কথা, কাজ বা সমর্থনই সুন্নত। ফিকহের পরিভাষায় সুন্নত ভিন্ন। ফিকহের সুন্নত হলো ফরয-ওয়াজিব ও মানদুব-মুস্তাহাবের মাঝামাঝি একটি পর্যায়। যা করলে সওয়াব হবে, তবে ছাড়লে গোনাহ হবে না, যদি মুয়াক্কাদা না হয়।

ফিকহের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবাহ ফরয-ওয়াজিব-সুন্নত-মুস্তাহাব-মাকরূহ সবই হতে পারে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে। সাদামাটাভাবে বললে (ফাতওয়ার ভাষায় নয়) এভাবে বলা যায় যে, ব্যক্তির বিবাহের চাহিদা তীব্র হলে এবং হারামে লিপ্ত হওয়ার শঙ্কা থাকলে, সাথে স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে সক্ষম হলে তা পরিস্থিতি ভেদে ফরয-ওয়াজিব হবে। ভরণপোষণ দিতে না পারলে তা মাকরূহ হতে পারে। আর স্বাভাবিক অবস্থায়, চাহিদা তীব্র না থাকলে বা হারামে লিপ্ত হওয়ার শঙ্কা না থাকলে, তা সুন্নত-মুস্তাহাব হবে।

এখন এই যে চাহিদা তীব্র হওয়া বা না হওয়া, বা হারামে লিপ্ত হওয়ার শঙ্কা থাকা বা না থাকা – এই ব্যাপারটি চারপাশের দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে। বর্তমানে প্রিন্ট-ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, ফ্যাশন শো, বিভিন্ন বার, বৈধ পতিতালয়, হারামে উত্তেজিত করা গান-নাটক বা পর্ণোগ্রাফি ইত্যাদি সবই হারামে লিপ্ত হওয়ার শঙ্কাকে বাস্তবে রূপ দেয়।

চারপাশে নষ্ট হওয়ার এত সব উপকরণ থাকাবস্থায় বর্তমানে একটি প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়ের নষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক, নষ্ট না হওয়াটা অস্বাভাবিক, অভাবনীয়। ভালো থাকাটা অতুলনীয় গুণ বলে বিবেচিত। যেখানে স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে কার কয়টা গার্লফ্রেন্ড আছে, তার ভিত্তিতে ব্যক্তির সম্মান নিরূপিত হয়, সেখানে আমাদের দাবীটি অবাস্তব নয়।

এ অবস্থায় ফিকহী গবেষণা কী বলবে তা গবেষকরা বলবেন, তবে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে আমার মনে হয়, প্রত্যেক সামর্থ্যবান প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিস্তারিত পড়ুন

মেয়েদের জন্য মসজিদের দরজা খুলে দিন

বেশ কয়েক বছর আগের কথা। একটা কাজে সস্ত্রীক লালমাটিয়াতে যেতে হয়েছিল। সেখানে থাকতেই মাগরিবের নামাযের সময় হয়ে গেল। পাশেই, মাত্র কয়েক মিনিটের হাঁটা পথে ছিল বড় একটা মসজিদ। ঢাকা শহরের ‘অভিজাত’ কিছু এলাকা বাদ দিলে বেশিরভাগ জায়গাতেই পর্যাপ্ত সংখ্যক মসজিদ আছে। ফলে, সুযোগ থাকলে প্রতি ওয়াক্তেই মসজিদে গিয়ে জামাতে নামায আদায় করা যায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত শহরে থাকার এটি একটি বড় সুবিধা।

কিন্তু, আমার স্ত্রীকে নিয়ে আমি পড়লাম বিপদে। তারও তো নামায আদায় করা দরকার। এখন কোথায় যাই? তাকে পাশের বেসরকারি একটি হাসপাতালে ঢুকিয়ে দিয়ে আমি চলে গেলাম মসজিদে। পরের ঘটনা ফিরে এসে তার কাছ থেকে শোনা। হাসপাতালের রিসেপশনিস্ট নামাযের কথা শুনে চমকে উঠল, ইন্টারকমে ওদের কোনো বড়কর্তাকে ফোন দিলো কী করা যায় তা জানতে। বড়কর্তার সিদ্ধান্ত জানার আগেই হাসপাতালের এক আয়া আমার স্ত্রীকে ভেতরের এক ঘরে নিয়ে জায়নামায দিয়ে বলল, ‘একটু নামায পড়বে তার জন্য আবার ফোন করা লাগে!’

ঢাকা শহরে অনেক মসজিদ। বেশিরভাগ শপিং সেন্টার, হাসপাতাল এবং অফিসেও নামাযের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা আছে। তার অধিকাংশই অবশ্য ছেলেদের জন্য। ভাবটা এমন যেন মেয়েদের ঘর থেকে বেরুতে হয় না, আর বেরুলেও নির্দিষ্ট সময়ে নামায আদায় করতে হয় না। মসজিদের এই শহরে মসজিদের দরজা মেয়েদের জন্য বন্ধ। ঘরের বাইরে নামায আদায়ের সুযোগ মেয়েদের জন্য রুদ্ধ। একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ হিসেবে এটি কি আমাদের সামষ্টিক ব্যর্থতা নয়?

***

Ibn Tulun Mosque

Photo credit: Scott D. Haddow, via flickr[dot]com/photos/42807077@N07/4546194942

আজকের দিনের বাস্তবতা হলো, মেয়েদেরকে ঘরের বাইরে বেরুতেই হচ্ছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে হোক বা আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য হোক অথবা কোনো দরকারী কাজ সারার জন্য হোক, দূরপাল্লার ভ্রমণে হোক বা স্থানীয় পর্যায়ের যাতায়াতে হোক, নানাবিধ কারণে নানাবিধ পরিস্থিতিতে মহিলাদেরকে বিস্তারিত পড়ুন