সন্তানের খাতিরে হলেও আপনার পরিবারের গুমোট পরিবেশ দূর করার উদ্যোগ নিন

Child on couch

নিউরোটিক মা আর পাপেট ছেলে — এ ধরণের কম্বিনেশনের ছেলেদের দাম্পত্য বেশির ভাগ সময়েই হয় ডিভোর্স না হয় ‘নিয়ারিং টু ডিভোর্স’-এ গিয়ে ঝুলে থাকে। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে এই নিয়ে একটা পার্মানেন্ট দূরত্ব তৈরি হয়। এতে করে পরবর্তীতে সে পরিবারের সন্তানেরা একটা কনফিউজিং স্টেটে বড় হয়। (মা দাদীকে দেখতে পারে না, দাদী মায়ের নামে পচা কথা বলে, মা বাবার সাথে রাগ রাগ থাকে, বাবা অনেক ধমক দেয় না হলে চুপচাপ থাকে। কিন্তু সবাইই তো আমাকে আদর করে!)। বাচ্চাটার সামনে তখন অনেকগুলো প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়। বড়দেরকে কীভাবে শ্রদ্ধা করতে হবে? সংসারের কর্তৃত্বটা আসলে কার হাতে? বাবাকে কতটুকু রেস্পেক্ট করব?  বিস্তারিত পড়ুন

Advertisements

নিউরোটিক মা + পাপেট ছেলে = ছেলের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি

“আপু, আপনি যা বলেছেন প্রত্যেকটা কথাই খুব বাস্তব। মনে হলো আমার জীবনটাই তুলে ধরেছেন আপনি।”

“আপু ঠিকই বলেছেন, কিন্তু আমাদের দিকটা তো কেউ দেখে না! আমরা যাই করি কেবল ভুল বোঝারই শিকার হই। সবাই নিজেরটা বুঝলে কী করে হবে? কাউকে না কাউকে তো ছাড় দিতে হবে!”

“আপু, আপনার থেকে অন্তত এমন একপেশে কথা আশা করিনি।”

ফেইল্ড দাম্পত্যে অসুখী পোস্ট-মেনোপজাল নিউরোটিক মায়েদের সম্পর্কে আমার লেখা পোস্টের প্রতিক্রিয়া। ছেলেরা বোকা না, অলস কুঁড়ে অন্ধও না। অন্যায়কে তারা দেখতে পায়। কেউ যখন বলে এটা অন্যায়, তখন মাথা নেড়ে মেনেও নেয়। কিন্তু …

এই কিন্তুতে গিয়েই পৃথিবী তাদের যেন থেমে যায়।

কিন্তু ১: সবই বুঝি, ‘কিন্তু’ কী করব? আমার মাকে তো যাই বলব তাই নিয়েই উনি বিশাল কান্নাকাটির যজ্ঞ বাধিয়ে ফেলবেন। কাজের কাজ কিছু হবে না, উল্টো আমি কত অকৃতজ্ঞ সন্তান তাই নিয়ে আরেকবার মহাকাব্য শুনতে হবে।

কিন্তু ২: স্বীকার করি, মা অন্যায় কথা বলেছেন। ‘কিন্তু’ আমার মা কোথা থেকে এসেছেন সেটাও তো তুমি দেখবে! উনি জীবনে কখনও সম্মান পাননি, সবকিছু মুখ বুজে সয়ে গেছেন আমাদের মানুষ করার জন্য। এখন আমরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে তাঁকে সুখী করার দিন। আমরা কী করে মুখ ফিরিয়ে নিই?

কিন্তু ৩: মানি, তোমার আলাদা থাকার অধিকার আছে। ‘কিন্তু’ মানুষ কী বলবে একবার চিন্তা করে দেখেছ? তাছাড়া এই বৃদ্ধ বয়সে উনারা যাবেনই বা কোথায়?

কিন্তু ৪: হ্যাঁ, উনি তোমাকে খোঁটা দিয়ে কথা বলেন। ‘কিন্তু’ উনি তোমাকে এটা ভালোবেসেই বলেন। উনার মন ভর্তি অনেক মায়া আর ভালোবাসা। দেখ না, সেদিন তরকারির একটা ভালো পিস তোমার জন্য তুলে রেখেছিলেন?

কিন্তু ৫: হতে পারে তাঁরা তোমাকে বিভিন্ন সময় কটু কথা বলেছেন। ‘কিন্তু’ তুমিও কি কম যাও? সেদিন তুমি কীভাবে উত্তর দিয়েছিলে? এটুকু সহ্য করতে পার না?

কিন্তু ৬: দেখ, উনারা যাই করুক, শেষ পর্যন্ত উনি আমার মা। উনাকে কষ্ট দিয়ে আমি জান্নাত পাব না। আমি উনার পাশেই থাকব। তুমি এভাবে মেনে নিতে না পারলে চলে যাও।

কিন্তু।

কিন্তু।

কিন্তু।

সমস্যা সমাধানের কয়েকটা ধাপ আছে। প্রথম ধাপ একনলেজমেন্ট: স্বীকার করা যে, সেখানে কোনো একটা সমস্যা আছে। নিউরোটিক মায়েদের অন্ধের যষ্ঠি ছেলেদের ডিনায়াল মেকানিজম খুব কড়া। কারণ বড় হতে হতে মায়েদের ইমোশনাল অনেক অন্যায় কাজ/আচরণ তারা দেখে দেখে কনফিউজড হয়ে এসেছেন। প্রথম প্রথম হয়তো আপত্তি জানিয়েছেন, তাতে করে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, এরপর সেঁকো বিষ খাওয়ানো সাপের মতো তারা সুপার কন্ডিশন্ড হয়ে গেছেন। মায়ের দোষকে দোষ মনে করা খারাপ। অন্যায়। অমন ভাবলে বিপদ হবে। বিস্তারিত পড়ুন

দম্পতির মাঝে শারীরিক অন্তরঙ্গতা

Red rose

আজকে দাম্পত্যের সবচাইতে স্পর্শকাতর বিষয়টা নিয়ে লিখব, যেটা নিয়ে কেউ কথা বলে না। যা নিয়ে অভিযোগ মনে আনাও পাপ, মুখে আনলে তো শেষ! এ বিষয়টা বাদ দিয়ে দাম্পত্য নিয়ে বুলি কপচানো রীতিমতো হঠকারিতা, কারণ বিয়ের আগ পর্যন্ত এ নিয়ে মানুষের জল্পনা কল্পনার শেষ থাকে না।

অন্তরঙ্গতা। সোজা ভাষায় শারীরিক সান্নিধ্য। যা নিয়ে বিয়ের আগে মেয়েদের উদ্বেগ, শংকা, লজ্জা মেশানো আকাঙ্ক্ষা, আর ছেলেদের কল্পনা, পরিকল্পনা – কোনো কিছুই বাধা মানতে চায়না – তা নিয়েও যে বিয়ের পরে দ্বন্দ্ব অভিযোগের অবকাশ থাকতে পারে, তা বিশ্বাস করা অবিবাহিতদের জন্য কঠিন বৈকি। বিবাহিতদের মধ্যেও অভিযোগগুলো দানা বাঁধলে তারা একরকম ধামাচাপা দিয়েই রাখতে চান। এর মূল কারণ, এসব বিষয়ে লজ্জার বাঁধ ভেঙে কথা বলা রীতিমতো অসম্ভব, কারণ নিজের স্বামী/স্ত্রীর সম্পর্কে এতটা খোলামেলা আলোচনা করা তাঁকে অসম্মান করারই সামিল। তাছাড়া এমন মানুষ আশপাশে পাওয়াও বেশ কঠিন যে একই সাথে উদার মনের, সমাধান জানে, গোপনীয়তা বজায় রাখবে এবং যার সম্পর্কে বলা তাকে আগের মতোই সম্মান করবে।

শারীরিক অন্তরঙ্গতা দম্পতির মাঝে এক নিগূঢ় যোগাযোগের মাধ্যম। এ যেন ছোটবেলার ‘কোড ওয়ার্ড’ দিয়ে কথা বলার মতো। আশপাশে আরো অনেকে থাকলেও তাদের নিজস্ব হাসি, ঠাট্টা, ছেলেমানুষি আনন্দের ভাগ দিতে হবে না কাউকেই। শরীরি আনন্দের মূর্ছনাকে তুলনা করা যায় বিস্তারিত পড়ুন

বউ শাশুড়ি ঘটিত সমস্যা

দম্পতি মানে কী? আভিধানিক অর্থে জায়া আর পতি – সুখী দম্পতি মানে তাহলে একজোড়া সুখী চড়াই চড়ানি – সমীকরণটা যদি এত সহজ হত, তাহলে চারপাশে শুধু সুখেরই বন্যা বইত।

বিয়ের সাথে সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে চলে আসে শ্বশুরবাড়ি, আত্মীয়স্বজন। বিয়ে হলে একটা ছেলেকে বা একটা মেয়েকে একইসাথে অনেকগুলো বন্ধন তৈরি করতে হয়। এদের একেকটার ডাইমেনশন একেক রকম। যেমন শ্বশুর শাশুড়ির চাহিদার সাথে শ্যালক সম্বন্ধীয় আত্মীয়ের চাহিদার মিল নেই। একটা নতুন বউ বা নতুন জামাই, বিয়ের অনুষ্ঠানে যেমন হাসিখুশি, লাজুক একটা ভাব নিয়ে সম্পর্কের বাঁধনে জড়ায়, নানা ধরণের আত্মীয়ের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে তা থেকে একটু সরে আসলেই অনেক সমালোচনার শিকার হতে হয়।

আজকের লেখাটা শুধু ছেলেদের উদ্দেশ্য করে লিখব। আমি জানি, বিয়ের আগে ছেলেরা খুবই ভয় পেয়ে যায় তার সবচেয়ে প্রিয় দুজন মানুষ, মা আর স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে। অনেক ছেলেই এই অশান্তির ভয়ে বিয়ে করতেও চায় না। তারা বুঝেও উঠতে পারেনা কী এমন হয়ে গেল সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে, যে ঘরে পা দিয়েই মায়ের ছলছল চোখ, স্ত্রীর অগ্নিবর্ষণ (অথবা উল্টোটা) দেখতে হচ্ছে। প্রথম প্রথম হয়ত আপনি আসাতে পরিস্থিতি বদলাবে, কিন্তু মনটাকে বদলাবে কে? মায়ের কাছে বউয়ের নামে অসন্তোষ, বউয়ের কাছে মায়ের নামে গঞ্জনা – এসব শুনে শুনে ছেলেটার তো মানুষের উপর থেকে সম্মানটাই উঠে যাওয়ার কথা। প্রথম প্রথম ছেলেটার মন খারাপ থাকে, নিজেকে ব্যর্থ মনে হয়, একটা সময় বুঝতে পারে, উপেক্ষা করাটাই সহজতম পন্থা। দুইজনকে আলাদা আলাদা তাল দিয়ে মন রক্ষা করলেই সুন্দর শান্তি থাকবে ঘরে। আর সব মেয়েলি ব্যাপার নিয়ে ছেলেদের মাথা ঘামাতে নেই। তাদের সমস্যা তারাই সমাধান করুক, এ সময়টা বরং আমি একটু ঘুমিয়ে নিই।  বিস্তারিত পড়ুন

সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য

Brown heart shaped hanging decor

আমার বিয়ের পর থেকে বিবাহ নামক সম্পর্কের বাঁধনটা নিয়ে অনেক ভেবেছি। ধুমধাম করে বড় করে মেহেদী, বিয়ে, রিসেপশন — এর পরে কী হয়? জমকালো সাজে বউটা বেশ আনন্দের সাথে নতুন ঘরে পা রাখে। তারপর কী হয়? আনুষ্ঠানিকতার লৌকিকতা যত ফিকে হয়ে আসে, মেহেদীর নকশা যত মিলিয়ে যেতে থাকে, বউটাও কি তত মেয়ের মতো হয়ে মিশে যায় এই পরিবারে? অচেনা বা অর্ধচেনা মানুষটি কি তার বাকি সব বন্ধনের অভাব ভুলিয়ে দিতে পারে?

বিয়ের আগে আমার একমাত্র বিবাহিত বান্ধবীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, বিয়েটা আসলে কী বল্ তো? তুই তোর বরকে কি মাথায় করে রাখিস? কোনো কিছু পছন্দ না হলে কী করিস? বাবামায়ের কথা যেমন আমরা পছন্দ না হলেও মেনে নিই, এখানেও কি তুই তাই করিস? নাকি, বন্ধুর মতো মতে না মেলা পর্যন্ত গলা ফাটিয়ে তর্ক করিস? ওর কোনো একটা কাজ অন্যায় দেখলে তুই কীভাবে সামলাস? ইত্যাদি ইত্যাদি। আচ্ছা পাঠক, বলুন তো, আপনাদের মধ্যে কি একজনও আছে যে বিয়ের আগে এসব ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা নিয়ে আসে? একজনও কি আছে যে বলতে পারে, না, আমার মা আমাকে এগুলো শিখিয়ে দিয়েছেন? ছেলেদের অবস্থা তো আরো ভয়াবহ। ছেলেকে স্বামী হওয়ার জন্য প্রস্তুত করার দায়িত্ব বাবার, এটা তো বাবারা কল্পনাই করতে পারেন না। মাঝেমধ্যে মনে হয়, এ যুগের বাবারা কি জীবিকা ছাড়াও জীবনে শেখার কিছু আছে এটা জানেন?

বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরই যেটা হয়, একগাদা অবাস্তব স্বপ্ন নিয়ে তারা সংসার শুরু করে। মেয়েটা মনে করে দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা ছেলেটার চিন্তা জুড়ে থাকবে শুধু সে। তার চাওয়াপাওয়ার দিকে শতভাগ মনোযোগ থাকবে। অপরদিকে ছেলেটা দেখে কল্পনার পরী জোছ্না রাতে গল্প করতে আসলেই বেশ লাগে। সিন্দাবাদের ভুতের মতো ঘাড়ে চেপে থাকলে অসহ্য বোধ হয়। ফলাফল, মেয়েটার অভিযোগ, আর ছেলেটার উদাসীনতা। স্বপ্নের নীড় স্বপ্নের দেশেই পড়ে থাকে। এর সাথে যদি অভিভাবকদের অন্যায় ব্যবহার যোগ হয়, তখন এই স্বপ্নকাতর কপোতকপোতীর কী যে দশা হয় বলাই বাহুল্য। একটা সময় হয়ত মেয়েটার মন কঠোর হয়ে যায়, ছেলেটা নিজের মতো করে ভালো থাকতে শিখে যায়, দুজনেই কষ্টগুলোকে একাএকা সামাল দিতে শিখে যায়। দূর দেশে কেঁদে মরে অপূর্ণ স্বপ্নগুলো। তার কান্না ভুলতেই বোধ করি এত এত বাস্তবতায় নিজেকে বেঁধে ফেলতে হয়।  বিস্তারিত পড়ুন