সন্তানের খাতিরে হলেও আপনার পরিবারের গুমোট পরিবেশ দূর করার উদ্যোগ নিন

Child on couch

নিউরোটিক মা আর পাপেট ছেলে — এ ধরণের কম্বিনেশনের ছেলেদের দাম্পত্য বেশির ভাগ সময়েই হয় ডিভোর্স না হয় ‘নিয়ারিং টু ডিভোর্স’-এ গিয়ে ঝুলে থাকে। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে এই নিয়ে একটা পার্মানেন্ট দূরত্ব তৈরি হয়। এতে করে পরবর্তীতে সে পরিবারের সন্তানেরা একটা কনফিউজিং স্টেটে বড় হয়। (মা দাদীকে দেখতে পারে না, দাদী মায়ের নামে পচা কথা বলে, মা বাবার সাথে রাগ রাগ থাকে, বাবা অনেক ধমক দেয় না হলে চুপচাপ থাকে। কিন্তু সবাইই তো আমাকে আদর করে!)। বাচ্চাটার সামনে তখন অনেকগুলো প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়। বড়দেরকে কীভাবে শ্রদ্ধা করতে হবে? সংসারের কর্তৃত্বটা আসলে কার হাতে? বাবাকে কতটুকু রেস্পেক্ট করব?  বিস্তারিত পড়ুন

নিউরোটিক মা + পাপেট ছেলে = ছেলের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি

“আপু, আপনি যা বলেছেন প্রত্যেকটা কথাই খুব বাস্তব। মনে হলো আমার জীবনটাই তুলে ধরেছেন আপনি।”

“আপু ঠিকই বলেছেন, কিন্তু আমাদের দিকটা তো কেউ দেখে না! আমরা যাই করি কেবল ভুল বোঝারই শিকার হই। সবাই নিজেরটা বুঝলে কী করে হবে? কাউকে না কাউকে তো ছাড় দিতে হবে!”

“আপু, আপনার থেকে অন্তত এমন একপেশে কথা আশা করিনি।”

ফেইল্ড দাম্পত্যে অসুখী পোস্ট-মেনোপজাল নিউরোটিক মায়েদের সম্পর্কে আমার লেখা পোস্টের প্রতিক্রিয়া। ছেলেরা বোকা না, অলস কুঁড়ে অন্ধও না। অন্যায়কে তারা দেখতে পায়। কেউ যখন বলে এটা অন্যায়, তখন মাথা নেড়ে মেনেও নেয়। কিন্তু …

এই কিন্তুতে গিয়েই পৃথিবী তাদের যেন থেমে যায়।

কিন্তু ১: সবই বুঝি, ‘কিন্তু’ কী করব? আমার মাকে তো যাই বলব তাই নিয়েই উনি বিশাল কান্নাকাটির যজ্ঞ বাধিয়ে ফেলবেন। কাজের কাজ কিছু হবে না, উল্টো আমি কত অকৃতজ্ঞ সন্তান তাই নিয়ে আরেকবার মহাকাব্য শুনতে হবে।

কিন্তু ২: স্বীকার করি, মা অন্যায় কথা বলেছেন। ‘কিন্তু’ আমার মা কোথা থেকে এসেছেন সেটাও তো তুমি দেখবে! উনি জীবনে কখনও সম্মান পাননি, সবকিছু মুখ বুজে সয়ে গেছেন আমাদের মানুষ করার জন্য। এখন আমরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে তাঁকে সুখী করার দিন। আমরা কী করে মুখ ফিরিয়ে নিই?

কিন্তু ৩: মানি, তোমার আলাদা থাকার অধিকার আছে। ‘কিন্তু’ মানুষ কী বলবে একবার চিন্তা করে দেখেছ? তাছাড়া এই বৃদ্ধ বয়সে উনারা যাবেনই বা কোথায়?

কিন্তু ৪: হ্যাঁ, উনি তোমাকে খোঁটা দিয়ে কথা বলেন। ‘কিন্তু’ উনি তোমাকে এটা ভালোবেসেই বলেন। উনার মন ভর্তি অনেক মায়া আর ভালোবাসা। দেখ না, সেদিন তরকারির একটা ভালো পিস তোমার জন্য তুলে রেখেছিলেন?

কিন্তু ৫: হতে পারে তাঁরা তোমাকে বিভিন্ন সময় কটু কথা বলেছেন। ‘কিন্তু’ তুমিও কি কম যাও? সেদিন তুমি কীভাবে উত্তর দিয়েছিলে? এটুকু সহ্য করতে পার না?

কিন্তু ৬: দেখ, উনারা যাই করুক, শেষ পর্যন্ত উনি আমার মা। উনাকে কষ্ট দিয়ে আমি জান্নাত পাব না। আমি উনার পাশেই থাকব। তুমি এভাবে মেনে নিতে না পারলে চলে যাও।

কিন্তু।

কিন্তু।

কিন্তু।

সমস্যা সমাধানের কয়েকটা ধাপ আছে। প্রথম ধাপ একনলেজমেন্ট: স্বীকার করা যে, সেখানে কোনো একটা সমস্যা আছে। নিউরোটিক মায়েদের অন্ধের যষ্ঠি ছেলেদের ডিনায়াল মেকানিজম খুব কড়া। কারণ বড় হতে হতে মায়েদের ইমোশনাল অনেক অন্যায় কাজ/আচরণ তারা দেখে দেখে কনফিউজড হয়ে এসেছেন। প্রথম প্রথম হয়তো আপত্তি জানিয়েছেন, তাতে করে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, এরপর সেঁকো বিষ খাওয়ানো সাপের মতো তারা সুপার কন্ডিশন্ড হয়ে গেছেন। মায়ের দোষকে দোষ মনে করা খারাপ। অন্যায়। অমন ভাবলে বিপদ হবে। বিস্তারিত পড়ুন

বউ শাশুড়ি ঘটিত সমস্যা

দম্পতি মানে কী? আভিধানিক অর্থে জায়া আর পতি – সুখী দম্পতি মানে তাহলে একজোড়া সুখী চড়াই চড়ানি – সমীকরণটা যদি এত সহজ হত, তাহলে চারপাশে শুধু সুখেরই বন্যা বইত।

বিয়ের সাথে সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে চলে আসে শ্বশুরবাড়ি, আত্মীয়স্বজন। বিয়ে হলে একটা ছেলেকে বা একটা মেয়েকে একইসাথে অনেকগুলো বন্ধন তৈরি করতে হয়। এদের একেকটার ডাইমেনশন একেক রকম। যেমন শ্বশুর শাশুড়ির চাহিদার সাথে শ্যালক সম্বন্ধীয় আত্মীয়ের চাহিদার মিল নেই। একটা নতুন বউ বা নতুন জামাই, বিয়ের অনুষ্ঠানে যেমন হাসিখুশি, লাজুক একটা ভাব নিয়ে সম্পর্কের বাঁধনে জড়ায়, নানা ধরণের আত্মীয়ের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে তা থেকে একটু সরে আসলেই অনেক সমালোচনার শিকার হতে হয়।

আজকের লেখাটা শুধু ছেলেদের উদ্দেশ্য করে লিখব। আমি জানি, বিয়ের আগে ছেলেরা খুবই ভয় পেয়ে যায় তার সবচেয়ে প্রিয় দুজন মানুষ, মা আর স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে। অনেক ছেলেই এই অশান্তির ভয়ে বিয়ে করতেও চায় না। তারা বুঝেও উঠতে পারেনা কী এমন হয়ে গেল সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে, যে ঘরে পা দিয়েই মায়ের ছলছল চোখ, স্ত্রীর অগ্নিবর্ষণ (অথবা উল্টোটা) দেখতে হচ্ছে। প্রথম প্রথম হয়ত আপনি আসাতে পরিস্থিতি বদলাবে, কিন্তু মনটাকে বদলাবে কে? মায়ের কাছে বউয়ের নামে অসন্তোষ, বউয়ের কাছে মায়ের নামে গঞ্জনা – এসব শুনে শুনে ছেলেটার তো মানুষের উপর থেকে সম্মানটাই উঠে যাওয়ার কথা। প্রথম প্রথম ছেলেটার মন খারাপ থাকে, নিজেকে ব্যর্থ মনে হয়, একটা সময় বুঝতে পারে, উপেক্ষা করাটাই সহজতম পন্থা। দুইজনকে আলাদা আলাদা তাল দিয়ে মন রক্ষা করলেই সুন্দর শান্তি থাকবে ঘরে। আর সব মেয়েলি ব্যাপার নিয়ে ছেলেদের মাথা ঘামাতে নেই। তাদের সমস্যা তারাই সমাধান করুক, এ সময়টা বরং আমি একটু ঘুমিয়ে নিই।  বিস্তারিত পড়ুন

আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার (২): বাবা-মার জন্য সবকিছু সবচেয়ে ভালোভাবে

সূরা আল-বাক্বারাহ-এর ৮৩তম আয়াতের ওপর ধারাবাহিক আলোচনার দ্বিতীয় কিস্তি।

আল্লাহ ﷻ এই আয়াতে আমাদেরকে এমন কিছু করতে বলবেন, যেগুলো আমরা সচরাচর শুনতে চাই না। বরং কেউ আমাদেরকে এই কথাগুলো বললে আমাদের গা জ্বালা করে, আমরা নানা টালবাহানা করে, অজুহাত দেখিয়ে এগুলো এড়িয়ে যেতে যাই। আজকে আমরা মুসলিমরা কত নীচে নেমে গেছি, সেটা এই আয়াত থেকে একেবারে পরিষ্কার হয়ে যাবে—

2_83

মনে করে দেখ, যখন আমি বনী ইসরাইলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম: “আল্লাহ ছাড়া আর কোনো কিছুরই ইবাদত করবে না; বাবা-মার জন্য সবকিছু সবচেয়ে ভালোভাবে করবে; এবং নিকটাত্মীয়, অসহায়-এতিম আর গরিব-সামর্থ্যহীনদের সাথেও; মানুষের সাথে খুব সুন্দর ভাবে কথা বলবে; সালাত প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দিবে।” এরপরও তোমাদের কয়েকজন ছাড়া বাকি সবাই মুখ ফিরিয়ে নিলে। তোমরা কথা দিয়ে কথা রাখোনি। [আল-বাক্বারাহ ৮৩]

বনী ইসরাইলিরা ছিল সেই যুগের মুসলিম। তাদের কাছ থেকে আল্লাহ ﷻ কিছু অঙ্গীকার নিয়েছিলেন। তারা সেগুলো মানেনি। আল্লাহ ﷻ তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আজকের যুগের মুসলিমরা হচ্ছে বনী ইসরাইলের উত্তরসূরি। আমরা কতখানি সেই অঙ্গীকার মানছি দেখা যাক—  বিস্তারিত পড়ুন

আমাদের সময়ের অংশীদার ২ – ফ্রেন্ড সার্কেল ও সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

প্রথম পর্বটি পড়ে হয়ত আপনাদের মনে হতে পারে বেশ উপদেশমূলক কথা বলে ফেলেছি। সত্যি বলতে আপনি এখন যেভাবে আপনার সন্তানের সাথে আচরণthumbsup করছেন তার প্রভাব তার মধ্যেও পড়ছে এবং তা আপনি দেখতে পারবেন যখন সে কিশোর বা যুবক হয়ে উঠবে তখন। তাই বলে আমি বলছিনা আপনার মা-বাবার সাথে আপনি সে রকম ব্যবহার করবেন যেভাবে তিনি আপনার সাথে করেছেন। শুধু মা-বাবা কেন আমাদের সবার সাথেই উত্তম ব্যবহার করা উচিত।

আমি এই পর্বে মুদ্রার অপর দিকটি তুলে ধরতে চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। সন্তানরা তাদের মা-বাবার সাথে কিভাবে সময় ব্যয় করে থাকে, আর বুঝাতে চেষ্টা করব কেমন ব্যবহার করা প্রয়োজন।

ফেসবুকের একটা আপডেট পড়ুন – “I’m worried 4 my mom because she is hospitalized nd I’ve not seen her fm last 1 week”. এটা আমার এক বন্ধুর আপডেট, আর দুঃখের ব্যপার হল সে আমার পাশে বসে এই আপডেট দিয়েছে যখন তার মা শয্যাশায়ী। কারও মা-বাবা যখন অসুস্থ থাকে তখন সে কেমন করে ফেসবুকে বসে এইসব আপডেট দিয়ে অযথা সময় নষ্ট করতে পারে তা আমার বুঝে আসেনা! আমি তাকে বললাম – “তুই এখানে কি করছিস? আমাদের সাথে বসে আড্ডা আর ফেসবুকে আপডেট দিচ্ছিস, ছিঃ সুমন খুব খারাপ ব্যপারটা। আন্টির কাছে যা; কাছে থাকলে উনার ভাল লাগবে, সাহস পাবে।” তার উত্তরটি ছিল এরকম – “আম্মার কাছে গিয়ে আমি কি করব। বাসার অন্যান্যরা আছে ওখানে; আর হাসপাতালের ডাক্তার এবং নার্স তো আছেই ইমারজেন্সির জন্য।” আল্লাহু আকবর।

আমরা আজকাল আমাদের ঘনিষ্ঠ কেউ অসুস্থ হলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটসগুলোতে আপডেট দিয়েই আমাদের কাজ শেষ মনে করি। আমার কথা হচ্ছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটস না থাকলে আমরা কি করতাম? পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য পালনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত –

“একদিন একজন লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে হাযির হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল – আমার কাছে সবচেয়ে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিকারী কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি জিজ্ঞেস করল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে লোকটি আবারও প্রশ্ন করলো, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি আবারও জিজ্ঞেস করল, তারপর কে? তিনি বললেন, তারপর তোমার পিতা” [সাহীহ বুখারী]

এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি মা-বাবা আমাদের উপর কতটূকু অধিকার রাখেন; শতকরা হারে বলা যায় মা ৭৫% এবং বাবা ২৫%। আর আমরা সন্তানরা মা-বাবার থেকে দূরে থাকি যখন তাদের আমাদেরকে খুব বেশি প্রয়োজন। দেখুন যারা একসময় আপনার ছোট থেকে ছোট ইচ্ছা এবং অভাব পূরণ করতে এতটুকু দ্বিধাবোধ করেননি। হয়ত এরকমও ঘটনা আছে মা-বাবা না খেয়ে সন্তানদের খাইয়েছেন, ঈদের জামা নিজে না পরে সন্তানদের পরিয়েছেন অথবা রাত জেগেছেন কান্না থামানোর জন্য। আর মা-বাবা যখন বৃদ্ধ অথবা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন আমরা আমাদের মূল্যবান সময় থেকে এতটুকু সময়ও বের করতে পারছিনা তাদের জন্য। আল্লাহ আমাদের সাহায্য করুন।

বেশিরভাগ ছেলেমেয়ের সাথে কথা বললে দেখবেন তারা বাসায় অবসর সময় কাটাচ্ছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটসগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফ্রেন্ডসদের স্ট্যাটাস এর উপর কমেন্ট অথবা নতুন ছবি আপলোড করে। আমি বলছিনা এসব সাইটসগুলোতে কোনও উপকারিতা নেই। এখন এসব সাইটসগুলোতে অনেক ইসলামিক পেইজ হচ্ছে; আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক স্কলারসরাদের কাছ থেকে অনেক জীবনঘনিষ্ঠ উত্তরও পাওয়া যাচ্ছে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যাবে; ছেলেমেয়েরা বন্ধের দিন অথবা বিকেলে বাসার থেকে বাইরেই থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। প্রিয় ফ্রেন্ড সার্কেলদের প্রাধান্য তাদের জীবনে অনেক বেশি, যেন তারাই তাদের ভরণ-পোষণ দেয় আর দেখাশোনা করে। বেশিরভাগ সময় আমরা যেসব বিষয় নিয়ে ফ্রেন্ডসদের সাথে আড্ডা দেই তা আমাদের জীবনে কোনো উন্নতিকর প্রভাব ফেলেনা। হ্যাঁ, যদি কোন প্রডাকটিভ আলোচনা যেমন ইসলাম, সমাজ ও দেশের উন্নয়ন ইত্যাদির ব্যপারে কথা হত; তখন এতে কোন সন্দেহ নেই যে এটা খুব ভাল ব্যপার। তাই বলে আবার মা-বাবার প্রয়োজনের সময় ভুলে গিয়ে যে কোন ধরণের ডিসকাশেনই আমাদের অংশগ্রহণ করা নয়। আল্লাহ সুবহানাহুতালা কুরআনে বলছেন –

وَقَضَى رَبُّكَ أَلاَّ تَعْبُدُواْ إِلاَّ إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاَهُمَا فَلاَ تَقُل لَّهُمَآ أُفٍّ وَلاَ تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلاً كَرِيمًا
“তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা।” (সূরা বনী ইসরাঈলঃ ১৭:২৩)

ছেলেমেয়েরা যেভাবে বাসায় তাদের মা-বাবার সাথে সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে সময় ব্যয় করতে পারে এ ব্যপারে কিছু সাধারন ধারণা দেওয়া যেতে পারে –

  • কমপক্ষে এটা বলতে পারি সব ফ্যামিলিই রাতে খাওয়ার টেবিলে একসাথে হয়। আপনি এখানে মা-বাবার সাথে বিভিন্ন ব্যাপার যেমন মায়ের সারাদিন কেমন গেল অথবা বাবার অফিস কেমন কাটল এসব ব্যপার নিয়ে কথা বলতে পারেন।
  • মা-বাবাকে মাঝে মাঝে সামান্য কিছু সুন্দর গিফট দিতে পারেন (যেমন রান্নার উপকরণ, জামা, মানিব্যাগ, কলম) যা পেয়ে উনারা খুব খুশি হতে পারেন।
  • মাকে রান্নার কাজে সাহায্য করতে পারেন বিশেষ করে বন্ধের দিনে অথবা তাদের জন্য স্পেশাল কিছু রান্না করে ফেলেন (কাচ্চি, ইলিশ মাছ, বিভিন্ন রকম ভর্তা, মুরগীর কোরমা) ইত্যাদি।
  • মা-বাবা যখন অসুস্থ তাদের সেবা দেওয়া, পাশেপাশে থাকা এবং সঠিকভাবে তাদের দেখাশোনা করা
  • দেশের বাইরে বা দূরে থাকলে প্রতিদিন একবার অথবা প্রতি সপ্তাহে কয়েকবার ফোন করে খোঁজখবর নেওয়া
  • মা-বাবার কথা মনযোগ দিয়ে শোনা এবং তাদেরকে মাথা ঠাণ্ডা করে সুন্দর উত্তর দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করা

আজকাল আবার নতুন একটা জিনিস যোগ হয়েছে মা ও বাবা দিবস। একটাদিনে “মা-দিবস” আর “বাবা-দিবস” পালন করেই শেষ; যেন এটা হচ্ছে সারা বছরের কাফফারা (প্রতিদান) স্বরূপ। সারাদিন আর সারাবছর কোন খোঁজ-খবর নেই আর একদিন একটা দিবসের নাম দিয়ে সেদিন গিফট বা রেস্টুরেন্টে ট্রিট দিয়েই আমাদের ভালবাসা প্রকাশ করেই আমরা ক্ষান্ত। এরকম করে ভালবাসা প্রকাশ করে আমরা কি এমন আকাশ পাতাল তফাৎ করছি এই সুন্দর সম্পর্কের? ব্যপারটা যেন এরকম মা-বাবাদের সাথে আমাদের একটা চুক্তি হয়েছে আমরা তাদের এই দিবসগুলোতে একদিনই তাদের খেয়াল রাখব আর উনারা আমাদের প্রতিদিন খেয়াল রাখবেন আর সেবা করবেন। বাহ! কি সুন্দর অনুপাত – ১ দিন : ৩৬৪ দিন। আবার এইদিন গুলোতে ফেসবুকে ইউজারদের দেখা যাবে খুব তৎপরতা, মানে তারা মা-বাবাকে নিয়ে খুব চিন্তিত। আর ফ্রেন্ডসদের মাঝে ডিসকাশন আমি আমার মায়ের জন্য এটা করেছি সেটা করেছি। অথচ দেখা যাবে পরের দিন থেকে মা-বাবার আর কোন খোঁজখবর নেওয়ার সময় নেই এইসব বেশিরভাগ ইউজারদের।

*বৃদ্ধ বাবা আর চড়ুই পাখির একটা গল্প আপনারা হয়ত সবাই শুনেছেন এবং দেখেছেন। যেখানে বাবা তার ছেলের একই প্রশ্নের বার বার উত্তর দেন এবং তিনি মোটেই বিরক্ত নন এতে। বরং যা বাবা বলেছিলেন তা তিনি তার ডায়েরীতে লিখে রেখেছিলেন এভাবে – “আমি তাকে আনন্দে প্রতিবার জড়িয়ে ধরছিলাম যতবার সে আমাকে এটা জিজ্ঞাসা করছিল, বার বার এবং এতে আমার একদম মেজাজ খারাপ হচ্ছিলনা, বরং অনুভব করছিলাম তার জন্য আরও বেশি আদর ও স্নেহ”। আর বাবা তার ছেলেকে মাত্র তিন-চারবার জিজ্ঞাসা করাতেই সে খুব ক্ষেপে বাবাকে ধমক দিয়ে উঠেছিল। যা কক্ষনই কাম্য নয়।

আমি এই এই বৃদ্ধ বাবার গল্পটির মাধ্যমে যা বুঝতে চেয়েছি তা হলো আমাদের মা-বাবা আমাদের কাছ থেকে কি ধরণের ব্যবহার আশা করেন। আমরা আমাদের মা-বাবাদের প্রতিদিন খেয়াল রাখব এটাই আমাদের কর্তব্য। আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য করুন এই কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে। আর আল্লাহ সুবহানাহুতালার কাছে দুয়া করব তিনি আমাদের কুরআনে যা বলেছেন –

رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
“আমার প্রভু – তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।” (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:২৪)

——

*বিঃদ্রঃ- বৃদ্ধ বাবা আর চড়ুই পাখির গল্পটির ভিডিও দেখতে এই লিংকএ যেতে পারেন। Link – http://www.youtube.com/watch?v=2kpLDkWg5DA