পরকালীন জীবনে বিশ্বাসের যৌক্তিকতা (অনুবাদ)

উস্তাদ নুমান আলী খানের একটি লেকচারের অংশবিশেষ থেকে অনুদিত। মূল অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় Nouman Ali Khan Collection In Bangla ফেসবুক পেইজে।

above-cloud

আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের অত্যাবশ্যকীয় দাবী হলো আপনি অবশ্যই পরকালে বিশ্বাস করবেন। আপনি যদি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস না করেন তাহলে আপনার জন্য এটা মেনে নেওয়া খুবই কঠিন হয়ে যাবে যে, এই জীবনের পরে আরও একটি জীবন আছে। কিন্তু, আপনি যদি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেন তাহলে এই বিশ্বাসেরই যৌক্তিক পরিণতি হলো পরকাল।  বিস্তারিত পড়ুন

সূরা ‘আসর অল্প কথায় আমাদেরকে যা শেখায় (অনুবাদ)

উস্তাদ নুমান আলী খানের একটি লেকচার থেকে অনুদিত। অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় Nouman Ali Khan Collection In Bangla ফেসবুক পেইজে। Underwater

মনে করুন, আপনি পানিতে ডুবে যাচ্ছেন এবং ওই সময় আপনার কোনো জ্ঞান নেই। অর্থাৎ, অজ্ঞান অবস্থায় আপনি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছেন। আপনার কী মনে হয়? এরকম একটা অবস্থায় আপনার হাতে কি বাঁচার জন্য অনেক সময় আছে? আপনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পানির গভীরে তলিয়ে যাচ্ছেন। এর মানে, আপনার হাতে কিন্তু মোটেও সময় নেই! সময় খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। আরবীতে এভাবে সময় শেষ হয়ে আসাকে বুঝানোর জন্য ‘আসর’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। ‘আসর’-এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে সময়, যেটা শেষ হয়ে আসছে। দিনের শেষ সময়, যখন দিন শেষ হয়ে আসে, তখনই আসর নামাজের ওয়াক্ত হয়। ‘আসর’ শব্দের উংপত্তি হচ্ছে ‘অসির’ শব্দটি থেকে, যার মানে হচ্ছে চিপে রস বের করা। ‘সময়’, যেটা হাতের ফাঁক দিয়ে চলে যাচ্ছে। আমরা ভেজা কাপড় শুকাতে দেয়ার আগে দুই হাত দিয়ে মুচড়িয়ে যেভাবে পানি বের করি, ‘আসর’ শব্দটি এধরনের অর্থ বোঝাতেই ব্যবহার করা হয়।

তার মানে, এখানে আল্লাহ এমন একটা মুহুর্তের কথা বর্ণনা করছেন যখন আপনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পানিতে ডুবে যাচ্ছেন এবং আপনার সময় শেষ হয়ে আসছে। এমন অবস্থায় বেঁচে থাকতে হলে আপনাকে সর্বপ্রথম কোন কাজটা করতে হবে? বেঁচে থাকার আশা করতে হলে কোন জিনিসটা আপনার একেবারে শুরুতে দরকার? … কী মনে হয়? … বিস্তারিত পড়ুন

অহেতুক তুলনা করবেন না (অনুবাদ)

উস্তাদ নুমান আলী খানের একটি লেকচার থেকে অনুদিত। অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় Nouman Ali Khan Collection In Bangla ফেসবুক পেইজে।

Bell peppers

Photo credit: Prerana Jangam, via pdpics[dot]com/photo/1965-different-bell-peppers/

কুরআন তেলাওয়াতে পারদর্শী নন এরকম একজন যুবক ভাই একদিন আমাকে একটা প্রশ্ন করেছিলেন। প্রশ্নটা ছিল এরকম – “আমি সবসময় ভালো করে কুরআন পড়ার চেষ্টা করি, কিন্তু এত চেষ্টা করার পরও আমি শুদ্ধ করে পড়তে পারি না”। তার কথা শুনে মনে হচ্ছিল তিনি খুবই আবেগী প্রকৃতির মানুষ। একদিন তিনি রেডিওতে কোনো এক প্রোগ্রামে একটা ছোট বাচ্চার কুরআন তেলাওয়াত শুনছিলেন। সেই বাচ্চাটা এত সুন্দর করে পড়ছিল যে, ওই প্রোগ্রামের শিক্ষক বলছিলেন, “সুবহানআল্লাহ! তোমার নফ্স, তোমার মন খুব পবিত্র। তুমি খুব পবিত্র। আর একারণে আল্লাহ তোমাকে এত সহজে, এত সুন্দর করে তেলাওয়াত করার ক্ষমতা দিয়েছেন”। তো এই কথা শুনে ওই যুবক চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং ভাবতে লাগলেন – আমি মনে হয় ভালো মানুষ না, এজন্যে আমি ভালো করে কুরআন পড়তে পারি না, আমার আত্মা পবিত্র না। এসব ভেবে তিনি মানসিকভাবে কষ্ট পেতে থাকলেন। যদিও আমি নিশ্চিত ওই রেডিও প্রোগ্রামের শিক্ষক এরকম কিছু বোঝাতে চাননি, তিনি নিছক সেই বাচ্চা ছেলেকে উংসাহ দেয়ার জন্য এরকম কিছু বলেছিলেন।

এই প্রেক্ষিতে আসুন আমরা একটা হাদিস দেখি, যেখানে রাসুল (স) বলেছেন ‘কুরআন তেলাওয়াতে পারদর্শী ব্যক্তিরা উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। কিন্তু, যারা (উচ্চারণগত বা অন্য কোনো সমস্যা থাকা সত্বেও) কষ্ট করে পড়ার চেষ্টা করে, তারা দ্বিগুন পুরস্কার পাবে।’ [সহিহ মুসলিম]  বিস্তারিত পড়ুন

ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবনের একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত

উস্তাদ নুমান আলী খানের “Happiness, Fun and Pleasure” লেকচার থেকে অনুপ্রাণিত। 

আপনি নতুন বিয়ে করেছেন, রাস্তা দিয়ে আপনার স্ত্রীকে নিয়ে যাচ্ছেন। হঠাৎ করে তিনি হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন। আপনি দ্রুত গিয়ে তুললেন, সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, “আমি কখনই তোমার কিছুই হতে দেব না, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি!”

নতুন বিবাহের মধ্যে এরকম ভালোবাসাই থাকে.. .এরকম আবেগের মধ্য দিয়েই আমরা যাই… এভাবে আমাদের জীবনের অনেকগুলো স্তর থাকে… বিবাহের প্রাথমিক অবস্থা থেকে সন্তান-নাতি-নাতকুর বয়স পর্যন্ত।

আমাদের জীবনের অবস্থা কেমন? ছোটবেলায় খেলা নিয়েই পড়ে থাকি, কিছুটা বড় হলে বিস্তারিত পড়ুন

উপাসনা না দাসত্ব? (অনুবাদ)

উস্তাদ নুমান আলী খানের একটি লেকচার থেকে অনুদিত, যেখানে তিনি সূরা কাফিরূন-এর দ্বিতীয় আয়াতটি ব্যাখ্যা করেছেন।  

আমি আপনাদেরকে আরবি শব্দ “ইবাদাহ” বা এর মাছদার “উবুদিয়া”-এর অর্থ বোঝাতে চাই। শব্দটি দ্বারা দু’টি জিনিস বোঝায়, যদি আমি এর যেকোনো একটি অর্থ ব্যবহার করে অনুবাদ করি তাহলে অনুবাদটি হবে অসম্পূর্ণ। এটা ক্লাসিকাল আরবির বিপরীতে ইংরেজি বা বাংলার সীমাবদ্বতা। ক্লাসিকাল আরবির একটি শব্দ দিয়ে একই সময়ে অনেকগুলো অর্থ প্রকাশ করা হতো। যদি আমরা এই ধারণাটি (ইবাদা শব্দটি) আংশিক বাংলা অর্থ দিয়ে অনুবাদ করি, তাহলে বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই। যে দু’টি পদ আরবি শব্দ ইবাদার পরিপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে তাহলো – উপাসনা এবং দাসত্ব। অধিকাংশ সময় আমরা যেকোনো একটি অর্থ গ্রহণ করি। বাংলায় দু’টি আলাদা বিষয়, কিন্তু আরবি একটি শব্দ ইবাদা দ্বারা উভয়টিই বোঝায়। সুতরাং যখন রাসুল (স) বলেন, ‘লা আ’বুদু মা তা’বুদুন’ – এর অর্থ শুধু এটা নয় যে, আমি উপাসনা করব না, বরং এর অর্থ এটাও যে, আমি গোলাম হব না , আমি দাস হব না।

man-prayingসংক্ষিপ্তভাবে আমি আপনাদেরকে উপাসনা এবং দাসত্বের পার্থক্য স্মরণ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করব। যখন মাগরিবের নামাজের সময় হয়, আমরা আল্লাহর উপাসনা করি। আবার যখন এশার নামাজের সময় হবে, আমরা উপাসনা করব। কিন্তু এই দুই নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে আমরা কী? আল্লাহর দাস। যখন আপনি ঘুমাচ্ছেন আপনি উপাসনা করছেন না, কিন্তু তখনও আপনি আল্লাহর একজন দাস। যখন আপনি ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন, গাড়ি চালিয়ে কাজে যাচ্ছেন, দাঁত ব্রাশ করছেন, নাস্তা করছেন, গাড়ি পার্ক করছেন – যদিও এই সময় আপনি কুরআন তিলাওয়াত করছেন না বা  কোনো উপাসনার কাজ করছেন না – কিন্তু এই সময়েও আপনি আল্লাহর একজন দাস।

অন্য কথায় উপাসনা হলো – কিছু সুনির্দিষ্ট কাজের নাম। রোজা রাখা, নামাজ পড়া, হজ্জ পালন করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, দান করা – এসব কাজ হলো উপাসনা। কিন্তু একজন দাস সবসময়ই একজন দাস। সে এই কাজগুলো পালন করুক আর নাই করুক। এই ধারণাটি খুবই শক্তিশালী। এর মানে হলো – আমাদেরকে জীবন যাপন করতে হবে সেভাবে- যেভাবে বিস্তারিত পড়ুন